
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিদি।।
আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কে সৃষ্ট গর্ত দিন দিন বড় হচ্ছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করতে হচ্ছে দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। সড়কটি বেহাল হয়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ সালে গুলিশাখালী ও কুকুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য গোছখালী বাজারের কাছে গুলিশাখালী খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ২০২২-২৩ সালে নির্মিত হয় সেতুর দুই তীরের সংযোগ সড়ক। এর তিন বছরের মাথায় চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকে পশ্চিমপাশের সংযোগ সড়কের মাঝ-বরাবর দেবে যায়। এতে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। সেই গর্তটি ভরাট না করায় সড়ক ভেঙে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
গোছখালী এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেনের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তটিতে পানি জমে যায়। ফলে প্রায়ই সেতুতে ওঠার সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন। অনেক সময় যানবাহন আটকে গিয়ে গ্রামীণ এই সড়কে যানজটও সৃষ্টি হয়।
এ বাজারের ব্যবসায়ী এনসান আলীর দেওয়া তথ্যমতে, সড়কটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ ও নানা ধরনের যানবাহন এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সংযোগ সড়কের গর্ত দ্রুত সংস্কার না করায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নিয়মিত এই পথে যাত্রী বহনকারী অটোরিকশার চালক মো. রাব্বি হোসেন জানান, সম্প্রতি সেতুর ঢালের রাস্তায় যাত্রীসহ গর্তে পড়ে যান। তিনিসহ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। অটোরিকশা চালক মহিবুল্লাহর ভাষ্য, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সেতুটি পার হতে হয়।
ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী মো. বাবুল হোসেনও কয়েক দিন আগে রাতে দুজন যাত্রী নিয়ে গর্তের পানিতে পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘যেভাবে পড়েছিলাম সেদিন মরেই যেতাম। ভাগ্য ভালো যে সেদিন আল্লাহ বাঁচাইছেন।’ গুলিশাখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, জনস্বার্থে সেতুটির সংযোগ সড়ক মেরামত করা প্রয়োজন। এটি মেরামত করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলীর ভাষ্য, এ বিষয়ে তারা বরাদ্দ চেয়েছেন। টাকা পাওয়া গেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হবে।