
নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া : ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় সাংবাদিকতার পরিচয়ের আড়ালে অবৈধভাবে কনডম মজুত ও ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে শাহাদাত হোসেনের পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিপুল পরিমাণ কনডম জব্দ, ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে।
জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জামান-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ কনডম মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় পণ্যের সংরক্ষণ, বিক্রয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, প্রতিষ্ঠানে ভোক্তা-স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাগজপত্রে অসঙ্গতি এবং অবৈধভাবে পণ্য সংরক্ষণের অভিযোগে প্রচলিত আইনের আওতায় ৪ লাখ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়, যাতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা না যায়।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জামান বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান আইন অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। জব্দ করা পণ্যের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার পর আশুলিয়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই অবৈধ ব্যবসা ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি তদন্তে আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।