
আনোয়ার হোসেন, বেনাপোল :
দেশকে এগিয়ে নিতে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কোনোভাবেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচার করা যাবে না। চোরাচালান রোধ এবং সঠিকভাবে রাজস্ব আদায়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
গতকাল সোমবার (২১শে সেপ্টেম্বর) বিকাল বেলা বেনাপোল কাস্টমস হাউসে এর মিলনায়তনে কাস্টমস কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরওবলেন, বেনাপোল দেশের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় এই পথে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করা সম্ভব হয়। তবে বেনাপোল বন্দর কে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদেএ বিষয়টি উত্থাপন করেছেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবেরা নাজমুন মুন্নী। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
মতবিনিময় সভায় কাস্টমসের পক্ষ থেকে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন সহকারী কমিশনার অতুল কুমার। কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানামার জন্য পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্টের ঘাটতির কথা তুলে বলেন। একই সঙ্গে আমদানিও রপ্তানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজন বলেন, একসময় এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতো। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে যাত্রী যাতায়াত আবারও বাড়বে। বর্তমান আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল রাখতে বেনাপোল থেকে ঢাকা পদ্মা সেতু পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের দাবিও জানান তিনি।
বিকেল ৫টার দিকে প্রতিমন্ত্রী বেনাপোল পৌরসভা গেটে পৌঁছান। সেখানে বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত. আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিদর্শন করেন তিনি। পরে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, স্বল্প সময়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ১০ হাজার গাছ রোপণ করেছেন, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বর্ষা মৌসুম শেষে বৃক্ষ রোপণ করা গাছগুলো যাতে বেঁচে থাকে, সেইজন্য নিয়মিত পানি দেওয়া ও যথাযথ পরিচর্যার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী পৌর গেটের আশপাশে বৃক্ষ রোপণ করা গাছগুলো পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে তিনি উলশী শহিদ জিয়াউর রহমান খাল ও তালবাগান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও পৌর গেটে প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। শত শত নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে দুটি স্থানই অনেকটা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও পৌর গেটে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবেরা নাজমুন মুন্নী, শার্শা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মফিদুল ইসলাম তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা খাইরুজ্জামান মধু, সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, বেনাপোল পৌর বিএনপির সভাপতি নাজমিন উদ্দিন, সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সনি, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত, নাভারণ সার্কেলের এএসপি আরিফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান সজনসহ অনেকে।
পৌরসভা গেট এ সমাবেশে সঞ্চালনা করেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত।