
বরিশাল জেলার গৌরনদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এর দলিলমূলে কেনা জমির দখল নিয়ে বিরোধ, হয়রানির অভিযোগ – আরিফ ফিলিং স্টেশন নিয়ে দ্বন্দ্ব, আদালতের রায়-আদেশ অমান্যের অভিযোগ
কটকস্থল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আরিফ ফিলিং স্টেশন নিয়ে দ্বন্দ্ব, আদালতের রায়-আদেশ অমান্যের অভিযোগ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দলিলমূলে ক্রয় করা প্রায় ৩০ শতাংশ জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে হয়রানি ও নানা ধরনের আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মাঝীর ছেলে হিরা মাঝী ও তার পরিবারের সদস্যরা।
হিরা মাঝীর অভিযোগ, কটকস্থল এলাকার শামসুদ্দিন মোল্লার কাছ থেকে দলিলমূলে প্রায় ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই জমির পাশের সমপরিমাণ জমির মালিক হারুন বেপারী তার ক্রয়কৃত জমির একটি অংশে তেলের পাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেন বলে দাবি করেন হিরা।
তার অভিযোগ, নির্মাণকাজ তার দলিলমূলে কেনা জমির অংশে চলে আসায় তিনি মৌখিকভাবে আপত্তি জানান। তবে আপত্তি উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয় বলে দাবি তার। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আদালতের শরণাপন্ন হন।
হিরা মাঝীর দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের বিভিন্ন আদেশ ও রায় তাদের পক্ষে এসেছে। তবে এসব আদেশ ও রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন না করে বিরোধপূর্ণ জমিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন হিরা মাঝী।
হিরা মাঝী বলেন, “আমরা দলিলমূলে জমি ক্রয় করেছি। বৈধ কাগজপত্র ও আদালতের আদেশ-রায় থাকা সত্ত্বেও নিজেদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় রয়েছি। আমরা চাই, জমির দলিল, খতিয়ান, দখলসংক্রান্ত নথি ও আদালতের আদেশ-রায় যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী বিষয়টির সমাধান করা হোক।”
ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব থেকেও বঞ্চিত করার অভিযোগ
জমির বিরোধের পাশাপাশি কটকস্থল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আরিফ ফিলিং স্টেশন নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব থেকেও তাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হিরা মাঝীর পরিবার।
এ বিষয়ে হারুন বেপারী, ওয়াজেদ বেপারী, পপি বেগম ও আজমল সিদ্দিকী সোহাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে অংশীদারত্বের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চুক্তি বা নথিপত্রের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির দলিল, খতিয়ান, দখলসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আদালতের আদেশ ও রায় সরেজমিনে যাচাই করা হলে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে যার যে অধিকার, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে হারুন বেপারী, ওয়াজেদ বেপারী, পপি বেগম ও আজমল সিদ্দিকী সোহাগের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।