
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
কর্মজীবনে কর্মস্থল পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে মানুষের জন্য কী রেখে গেলেন, সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পালনেই জনবান্ধব ভূমি সেবা, অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং দ্রুততার সঙ্গে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে গৌরনদীবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে উঠেছেন।
গৌরনদী উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘ভূমি সেবার শুদ্ধতাই কমাতে পারে সামাজিক বিরোধ’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত শুনানি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি।
দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের তদবির কিংবা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁর প্রতি আস্থা তৈরি হয়। ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত রাখার পাশাপাশি সরাসরি সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে সরকারি খাসজমি উদ্ধার, জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা, অবৈধ দখল প্রতিরোধসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিশেষ করে নিজে শতভাগ শুনানি করার উদ্যোগ এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপের শিকার না হন, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া গৌরনদীর ইউএনওর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জনস্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
শুধু ভূমি সেবাই নয়, মাদক নির্মূলেও তাঁর জোরালো অবস্থান স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দেয়। অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি।
গৌরনদীবাসীর মতে, স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পালনের মধ্যেও এসিল্যান্ড মো. মেহেদী হাসান যে কর্মদক্ষতা, সাহসিকতা, সততা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সদ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মস্থলেও তিনি আরও শক্ত হাতে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সাধারণ মানুষের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা নিশ্চিত করবেন।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে তাঁর উদ্দেশে বলা হয়েছে, “একদিন আবার গৌরনদীর ইউএনও হিসেবে আপনাকে ফিরে পাব—এমন আশাবাদ আমরা রাখি।”
নতুন কর্মস্থলে মো. মেহেদী হাসানের সফলতা কামনা করে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন গৌরনদীবাসী।