
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকার আশুলিয়ার আমিন মডেল টাউন এলাকায় অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মৃত মুরগী জবাই ও প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক অবরুদ্ধ ও হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির নাম “এমএস ফারদিন এন্টারপ্রাইজ”। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি মৃত মুরগী প্রক্রিয়াজাত করে “নন্দন ফুডস” নামে বাজারজাত হওয়া চিকেন টি-বলসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করছে। এছাড়াও এসব প্রক্রিয়াজাত মুরগী “গোল্ডেন হার্ভেস্ট” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার কবিরপুর তেলিবাড়ী বাজার রোড সংলগ্ন আমিন মডেল টাউন এলাকায় গড়ে ওঠা কারখানাটিতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মুরগী প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানার আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এ কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. লোকমান হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকরা হলেন— মো. আশরাফ আলী (দৈনিক ঘোষণা, স্টাফ রিপোর্টার), খোকন হাওলাদার (দৈনিক দেশের কণ্ঠ, সাভার প্রতিনিধি) এবং মো. রুবেল আকন (আজকের প্রতিদিন, আশুলিয়া প্রতিনিধি)।
অভিযোগ রয়েছে, “এমএস ফারদিন এন্টারপ্রাইজ”-এর ভেতরে নিয়ে তিন সাংবাদিককে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক লোকমান হোসেন, তার ছেলে ফারদিনসহ কয়েকজন সাংবাদিকদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সচেতন মহল বলছে, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত এমন গুরুতর অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।