
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় অবস্থিত এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের এক কর্মীর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং কর্মীদের হয়রানির চেষ্টাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বপন মালত ওরফে ‘পাগলা স্বপন’—অফিস আইডি কার্ড নম্বর TNC 60027 এবং যোগদানের তারিখ ১ মার্চ ২০১০—নামে ওই ব্যক্তি নিয়মিত দায়িত্বপ্রাপ্ত সেকশনে কাজ না করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেকশনে ঘোরাফেরা করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শ্রমিক।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কেউ তাঁর আচরণের প্রতিবাদ করলে তাঁদের ছবি তুলে প্রতিষ্ঠানের মালিক রবিউল আলম মালতের কাছে পাঠানোর মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়। এতে অনেক শ্রমিক ভয়ে প্রকাশ্যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে চান না বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
এ ছাড়া কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি কয়েকজন শ্রমিকের।
সম্প্রতি অসুস্থ মো. রেজাউল মালত অফিসের মেডিকেল সেন্টারে যাওয়ার সময় তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বপন মালতের বিরুদ্ধে। শ্রমিকদের দাবি, সকাল ৮টার দিকে প্রায় ১০০ জন শ্রমিকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি প্রশাসনিক বিভাগকে জানানো হলেও অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাতে অবস্থানকারী শ্রমিকদের নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। কয়েকজন শ্রমিকের দাবি, তাঁদের ‘চোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এমন মন্তব্যে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
অভিযোগকারী কয়েকজন শ্রমিক বলেন, “মালত পরিবারের লোকজনের কারণে আমরা অনেক সময় এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারি না।”
তাঁদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বিভাগ যেন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে এবং স্বপন মালতের কর্মস্থলের দায়িত্ব, আচরণ ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এসব অভিযোগের দ্রুত তদন্ত না হলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি না করে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নিয়ম ও আইন অনুযায়ী বিষয়গুলো যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বপন মালতের বক্তব্য এবং এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।