
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্থিতিশীল থাকায় দেশের বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনো কম। ফলে কম দামের সুযোগ নিয়ে সীমান্তপথে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রায় জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। দেশের প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে কেনা জ্বালানি তেল যদি পাচার হয়ে যায়, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন—বিপিসিকে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, জাহাজ ভাড়া ও বিমা ব্যয়ও বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম আবার কমবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় সমন্বয় করা হবে। সুযোগ থাকলে আগের দামের চেয়েও কম দাম নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
বোরো মৌসুমে লোডশেডিং কমবে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
আগামী দিনে কৃষকদের কম খরচে সেচ সুবিধা দিতে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এতে কৃষকের সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর চাপও কমবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আযম মুহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন প্রিন্স, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী একরামুল হক, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহিদুজ্জামান মনা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।