
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূমি সংক্রান্ত সেবা থেকে বঞ্চিত আছেন কয়েক হাজার মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরে এই পদটি শূন্য থাকায় জমি কেনাবেচা, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জমে আছে জমির নামজারি ও জমা খারিজের আবেদন। ফলে স্তূপ হয়ে জমে আছে নামজারি জমা খারিজের জন্য আবেদনের ফাইল। ভূমি সংক্রান্ত বহু মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৬ এপ্রিল চলতি বছরের শারমিন বেগম এসিল্যান্ড বদলি হয়ে যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। তারপর থেকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ভূমি অফিস করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত কাজের পাশাপাশি তিনি দেখছেন ওই অফিসের কাজ।
ভূমিসেবা না পেয়ে ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম ও আতিক মিয়া বলেন, প্রায় দুই মাস আগে নামজারি জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। অফিসের কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, কবে নাগাদ এটি সম্পন্ন হবে। শুধু সাধারণ জনগণই নন, দলিল লেখকরাও ভূমি অফিসের সেবা বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন। নামজারির কাজ করাতে আসা সেবাগ্রহীতা মনির মিয়া বলেন, বেশ কিছুদিন আগে অনলাইনে এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় কাজ কবে শেষ হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এক দলিল লেখক বলেন, প্রতিদিন সরাইল এলাকায় প্রচুর জমি কেনাবেচা হয়। কিন্তু নামজারি ও খাজনা পরিশোধ ছাড়া জমি হস্তান্তর করা যায় না। এসিল্যান্ড না থাকায় এসব কাজ আটকে আছে।
এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে অফিসার পদায়ন করতে জেলা প্রশাসককে অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শিগগিরই উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদী।