
আশুলিয়া (ঢাকা) : শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ডিইপিজেড) ও বলিভদ্র এলাকায় ফুটপাত ও সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন স্থানে বসাকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই নারীসহ অন্তত ৪জন হকার আহত হয়েছেন বলে হকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে হকাররা কাঠ ও আসবাবপত্র মহাসড়কে ফেলে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের একাংশ অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে ওই সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে হকাররা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ডিইপিজেড পুরাতন জোনের সামনে ও বলিভদ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুপুর পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডিইপিজেডের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে এবং মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন হকার ব্যবসা করে আসছেন। এর আগে ওই এলাকায় একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। রোববার সকালে হকাররা ফের সেখানে বসতে গেলে আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
হকারদের দাবি, পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট জায়গা রেখে তারা ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আনসার সদস্যরা তাদের ব্যবসা করতে বাধা দেন। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
হকারদের অভিযোগ, কয়েকজন আনসার সদস্য তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে আনসার সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোববার সকালে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। আনসার সদস্য ও হকারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হলে কয়েকজন হকার আহত হন। হকারদের পক্ষ থেকে দুই নারীসহ অন্তত চারজন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এরপর ক্ষুব্ধ হকাররা কাঠ ও আসবাবপত্র মহাসড়কে রেখে ডিইপিজেড এলাকা থেকে বলিভদ্র বাজার পর্যন্ত সড়কের উভয় লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও ডিইপিজেড সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশ্বাসে হকাররা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ালে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্য ও হকারদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।
এদিকে, ফুটপাত দখল ও উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এবং হকারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।