
স্টাফ রিপোর্টার ।। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, যার লেখনীতে শত বছর আগেই ‘বাংলাদেশ’ নামের উচ্চারণ পাওয়া যায়। সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও ইনসাফের দর্শনে গড়ে ওঠা বাংলাদেশই ছিল নজরুলের স্বপ্ন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর সমাধি প্রাঙ্গণে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশের ১০৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন
উপাচার্য বলেন, “নজরুল তার কবিতায় বলেছেন, ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান’। ‘নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম’ কিংবা ‘দূর আরবের স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশের কুটির হতে’—এসব পঙ্ক্তিতে তিনি যে বাংলাদেশ কল্পনা করেছেন, তা সাম্য-সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক। সেই চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণই আমাদের দায়িত্ব।”
বিদ্রোহী নজরুল বিপ্লবী ওসমান হাদী স্মরণ কমিটি এবং বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদ্যাপন জাতীয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা, সমবেত কণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাপাঠ, দোয়া ও মোনাজাত, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং শপথপাঠ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মঞ্জুর হোসেন ঈসা। উদ্বোধন করেন বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদ্যাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান। প্রধান আলোচক ছিলেন কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী। বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, পরিবেশবাদী নেতা ও সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার এবং বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ শাহীন, যুগ্ম -আহবায়ক মাওলানা কবি খন্দকার শহীদুল হক, সাংবাদিক – কবি মোস্তফা কামাল মাহ্দী, সংগঠক ফজলুর রহমান পলাশ, নজরুল গবেষক প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান খান, ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, মিসেস রেহেনা সালাম,কবি ফারহানা ইসলাম রিমা, অ্যাডভোকেট লুতফুল আহসান বাবু,নাট্যকার এন এইচ বাদলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে কবি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদ ওসমান হাদীর আদর্শ আজও শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে পথ দেখায়। নতুন প্রজন্মের মাঝে তাদের বিদ্রোহী চেতনা ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈষম্যহীন ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা নিরলস কাজ করে যাবেন।