
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার তিতাসের কথিত মানষিক ভারসাম্যহীন নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষনের অভিযোগে জনের নামে মামলা করা হয়েছে।কিন্তু রহস্যজনকভাবে মূল অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামকে আসামি না করে করা হয় মামলার প্রধান সাক্ষী-এছাড়াও ঘটনায় জড়িত এলাকার লম্পট হিসেবে চিহ্নিত আশরাফুলকেও মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়। আসলেই কি দলবদ্ধ ধর্ষণের স্বিকার হয়েছিলো এই নারী নাকি এলাকার কোন দুষ্ট চক্রের সাঁজানো ফাঁদে ভাইরাল হলো দলবদ্ধ ধর্ষণ ঘটনার?সরজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায় গত ৩০ আগস্ট শুক্রবার সকালে তিতাসের দাসকান্দি বাজারে ৬যুবককে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করে স্থানীয় গ্রামবাসী।

বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ঘটনাস্থলে যায় তিতাসের ছাত্র-জনতা,সেনাবাহিনীর ও তিতাস থানা পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ভিকটিম নারী ও ৬যুবককে স্থানীয় এলাকাবাসীর রোষানল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ এবং রাতে ভিকটিমের ভাবি বাদী হয়ে আটক ৬যুবকের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরও ২/৩জনকে আসামি করে মামলা নং ৩ দায়ের করা হয়। তবে ভিকটিমের শত আর্তনাদে প্রকাশ পাওয়া মুল অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত হয়নি; হয়েছে মুল স্বাক্ষির তালিকায়। যেখানে ভিকটিম নারী নিজেই জানায়, তাইজুল মোবাইলে অশ্লিল ছবি ধারণ করেছে এবং সর্ব প্রথম সে ই ধর্ষণ করেছে বলে জানায় রোজিনা বেগম ছদ্মনাম।বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে এলাকাবাসী ও সুশিল সমাজের মাঝে চলছে নানা রকম গুঞ্জন। নেপথ্যে কার ইন্ধন রয়েছে খুঁজে বের করে ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী তাদের।
কারা কারা জড়িত এই ঘটনায় এমন প্রশ্নের জবাবে তাইজুল ইসলাম ও আশরাফুল আরও ৩/৪জন নাম সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে প্রকাশ্যে জানান ভিকটিম নিজে। তবে দীর্ঘদিনেও আটক হয়নি প্রধান অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম ও লম্পট আশরাফুল।অনুসন্ধানে জানা যায়,গেলো ২৭আগস্ট বিকালে দাসকান্দি বাজারের আলীর দোকানের সামনে ত্রাণের জন্য বসে থাকে ৩৫বছর বয়সি রোজিনা বেগম ছদ্মনামের কথিত এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী। আশায় আশায় সন্ধ্যা হয়ে গেলে প্রথমে দাসকান্দি গ্রামের পারুল উরফে ফারুক মিয়ার ছেলে তাইজুল ইসলাম তাকে ফুসলিয়ে দোকানের পাশে নিয়ে বিবস্ত্র ছবি ধারণ করে এবং অনৈতিক মেলামেশা করে পরে পোড়াকান্দি গ্রামের মৃত আক্তারের ছেলে আশরাফুলসহ অন্যরা সুযোগ নেয়। তবে কি কারণে তাইজুলকে মামলায় আসামি না করে স্বাক্ষী করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী বলেন বলেন,মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সংসার জীবনেও স্থায়ী হতে পারেননি; করতে হয়েছে একাধিক সংসার। আর অর্থের লোভে পরে একাধিক সন্তান দত্তক দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনা জানতে এলাকাবাসীর বক্তব্য নিতে গেলে ঘটনার মোড় নেয় ভিন্নখাতে। অভিযুক্ত পরিবারগুলোসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এ নারী টাকার বিনিময়ে দেহ ব্যবসা করে থাকেন বিভিন্ন এলাকায় এবং নিজের তিনটি সন্তানের মধ্যে দু’টিই সন্তান বিক্রিও করেছেন। তাদের দাবি ঘটনার দিন সে ধর্ষণের স্বীকার ছিলেন না, টাকার বিনিময়ে দেহ বিক্রি করেছিলেন এবং স্থানীয় একটা দালালচক্রের মাধ্যমে শালিশ বসিয়ে মোটা অংকের টাকার ফায়দা নেয়ার পথ করেছিলেন। কিন্তু ঘটনায় জড়িতরা একেক জন একের রকম কথাবার্তা বলায় শালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসিত না হলেই দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গাছের সাথে বেঁধে ভাইরাল করা হয়।
গ্রামবাসী ও আসামি পক্ষের পরিবারের লোকজন জানায়, বাজারে বিচারের কথা বলে ৬জনকে ডেকে আনা হয় পোড়াকান্দি গ্রামের রহমত উল্লাহ’র ছেলে ইব্রাহিমের নির্দেশে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকেও ফাঁসানো হয় এবং প্রথমে অনৈতিক কাজ ও মোবাইলে অশ্লিল চিত্র ধারণকারী তাইজুলকে আসামি না করে স্বাক্ষী করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন।এতসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মোঃ ইব্রাহিম খলিল সাংবাদিকদের বলেন,যদিও ঘটনার বিষয়ে ইব্রাহিম খলিল দাসকান্দি গ্রামের মরহুম নুরু মিয়ার ছেলে আরিফ সব জানেন বলে জানান, কিন্তু আরিফ বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আমি একা কিছু করি নাই গ্রামবাসীকে সাথে নিয়েই সব করা হয়েছে।পোঁড়াকান্দি গ্রামের চকের বাড়ির বাসিন্দা আনিস সরকার অভিযোগ তুলে বলেন, তাইজুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মামলায় প্রধান স্বাক্ষী হলেও ঘটনার পর থেকেই সে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে তার মা জানায়, জরুরী কাজে সে ঢাকা রয়েছে এবং ঘটনার পর দিন রাতে তার ঘরে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান।
এবিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও.সি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, মামলাটি বাদী যখন করে তখন কেনো তাইজুল ইসলাম কে আসামি করলেন না এখন মামলার পর এমনটা বললে কেমন হইলো? তারপরও আমাদের তদন্ত চলমান, মেডিকেল রিপোর্ট আসবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের চার্জশীট এর আওতায় আনা হবে।
এদিকে কতিথ মানসিক প্রতিবন্ধী রোজিনা বেগম ছদ্মনামের ওই নারী টাকা কাছে সন্তান বিক্রি ও টাকা লোভে দেহ বিনিময়সহ সব যে করতে পারে! সে কথা তার মুখের এই সরল স্বীকারোক্তি যেনো তা ই বুঝায়।তবে সুশীল সমাজের দাবি মামলাটির সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ধারায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক এবং নিরাপরাধ ব্যক্তিদেরকে দায় মুক্তি দেয়া হোক।