
সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে জমি লিখে না দেওয়ায় আশি বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা মো: মগর ফকিরকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ছেলে মনির ফকিরের (৪৫) বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা মগর ফকির তার ছেলের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বুধবার (০১ জুলাই) সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার সাব ইনস্পেক্টর শেখ মো. তারিকুল ইসলাম। এর আগে গত ২৮ জুন সকালে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর গ্রামে এঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধ মগর ফকির ও তার স্ত্রী সারা জীবন কষ্ট করে ছেলে মনির ফকিরকে লালন-পালন ও লেখাপড়া করিয়ে বড় করেন। কিন্তু গত ১৫-১৬ বছর আগে মনির নিজের সুখের জন্য আলাদা সংসার শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কোনো ভরণ-পোষণ, দেখাশোনা বা চিকিৎসার খরচ বহন করতেন না। উল্টো বাবার সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন।
ছেলের অত্যাচার থেকে বাঁচতে ইতিপূর্বে মগর ফকির তাকে ৩০ শতাংশ জমিও লিখে দেন। কিন্তু এতেও ক্ষান্ত হননি ছেলে মনির। বাকি জমি ও বসতবাড়ি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তিনি বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালান এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধর করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও ছেলে মনির কোনো সালিশ মানেননি এবং বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
সর্বশেষ গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মগর ফকির ও তার স্ত্রী নিজ বসতবাড়িতে অবস্থান করার সময় মনির আবারো জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। বাবা অস্বীকৃতি জানালে মনির তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে উঠানে ফেলে দেন। একপর্যায়ে মনির বৃদ্ধ বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকের ওপর হাঁটু দিয়ে চেপে বসেন এবং দুই হাত দিয়ে গলা টিপে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় বৃদ্ধের ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। যাওয়ার সময় মনির হুমকি দেন যে, বৃদ্ধ দম্পতি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে না গেলে তাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শ্বাস কষ্টে ভোগছেন খাটে আধশোয়া অবস্থায়। আর পাশেই মেঝেতে বসে ভাত হাতাচ্ছেন ওই বৃদ্ধের স্ত্রী। কি কারণে থানায় অভিযোগ করেছেন জানতে চাইলে দুজনেই চুপ করে থাকেন আর চোখ দিয়ে পানি পড়তে দেখা যায়। ছেলে মেয়ে কজন জানতে চাইলে ওই বৃদ্ধা নারী বলেন, আর আমার কোন সন্তান নাই, থাকলে কি আর সকালের খাওন এই দুপুরে হাতাইতাম। অভিযোগ আর ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, পুলিশ আসছিলো আমাদের বংশের মুরুব্বিরে দায়িত্ব নিছে। পুলিশ কইছে আমাদের সাহায্য করবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওই ছেলে মনির ফকির বলেন, থানায় অভিযোগ হইছে সে বিষয়ে জেনে আপনি কি করবেন? পুলিশ আসছে কথা হইছে। পারিবারিক বিষয় নিয়া ঝামেলা ওটা আপনারা না জানাই ভালো।
স্থানীয় এক নারী জানান, মাঝে মাঝেই ওই ছেলেটা বাপ মায়ের সাথে ঝগড়া করে। আমরা ফাকে থাকি আমরা আর কি কমু। জাগাজমি নিয়া বাপ মার লগে এমন করে।
এবিষয়ে ধামরাই থানার এস আই শেখ তারিকুল ইসলাম বলেন, দুই ছেলেতো ওনার প্রায়শই জমিজমা নিয়ে ঝামেলা করে। আমি বাড়ি গিয়েছিলাম, আইনি প্রক্রিয়া চলমান।