
দীর্ঘ প্রায় নয় বছরের বাউল গানের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে শুরু হওয়া এক যাত্রা আজ পরিণত হয়েছে এক আবেগঘন স্বপ্নপূরণে। ছোটবেলা থেকেই বাউল গানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিয়মিত গান শুনতেন এক তরুণ। আর সেই অনুপ্রেরণার মূল উৎস ছিলেন দেশের সুনামধন্য ও এশিয়া মহাদেশে খ্যাতিমান কিংবদন্তি বাউল শিল্পী মুক্তা সরকার।
তার সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হয়ে বাউল জগতে প্রবেশ করা এই ভক্ত পরবর্তীতে আরেক জনপ্রিয় শিল্পী জুলেখা সরকার-এর গান শুনতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে জুলেখা সরকারের প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জন্ম নেয়, যা একসময় বাস্তব জীবনের সম্পর্কে রূপ নেয়। ভাগ্যের অদ্ভুত পরিক্রমায় জুলেখা সরকারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন—কোনো একদিন তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রিয় শিল্পী মুক্তা সরকারের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়াবেন। সেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নেয়।
সম্প্রতি এক আয়োজনে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে মুক্তা সরকারের পরিবেশনায় একাধিক গান উপভোগ করার সুযোগ পান তিনি। এ সময় ঘটে এক আবেগঘন মুহূর্ত—মুক্তা সরকার স্নেহভরে জুলেখা সরকারকে ‘মেয়ে’ হিসেবে সম্বোধন করেন এবং তাকে নিজের ‘মেয়ের জামাই’ হিসেবে গ্রহণ করেন।
এই অকৃত্রিম ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং অল্প সময়ে আপন করে নেওয়ার অসাধারণ মানবিক গুণে মুগ্ধ হন উপস্থিত সবাই। শিল্পীর ব্যবহার, আচরণ এবং দর্শকদের সঙ্গে তার সংযোগ ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও হৃদয়স্পর্শী।
অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু তার নয়, বরং ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং পরিশ্রমের সম্মিলিত ফসল। তিনি প্রার্থনা করেন, কিংবদন্তি শিল্পী মুক্তা সরকার যেন দীর্ঘজীবী হন এবং ভবিষ্যতেও এভাবেই শ্রোতাদের মুগ্ধ করে যান তার সুমধুর কণ্ঠে।