নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ছয় মাসের জন্য শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার বিধান রেখে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের জন্য শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।
এর ফলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন।
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের লক্ষ্যে রেয়াতি সুবিধায় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।
আগস্টেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন পণ্য শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধায় আমদানির ক্ষেত্রে স্পষ্টীকরণসংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করে এনবিআর।
সরকারের সাম্প্রতিক নীতিতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও বৃহৎ পরিসরে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৭ সেপ্টেম্বর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৪৪২ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগের কথাও সরকারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ম্যাক্রো ফিসক্যাল ডেটাবেসে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি হলে নির্ধারিত সময়ের জন্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা কার্যকর হবে।
সরকারের আশা, এ ধরনের নীতি সহায়তার ফলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।