
আব্দুল বাতেন লাবু, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের পালপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী মৃতশিল্পের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৃতশিল্পীরা। দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখে মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদন করে আসছেন তারা।
পালপাড়া মৃতশিল্পের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জনাব মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এমপি এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পালপাড়া কেন্দ্রীয় পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি লিটন পাল বলেন, আমরা বংশপরম্পরায় মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও বাজারজাতকরণের নানা সমস্যার কারণে এ শিল্প আজ অনেকটা সংকটের মধ্যে রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিক ও লাভজনক শিল্পে পরিণত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় চেয়ারম্যান মহাদয় ও প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, পালপাড়ার মৃতশিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক সরঞ্জাম, কাঁচামাল ও পণ্য বিপণনের ও রাস্তা পাকা করার ব্যবস্থা করা হোক। এতে একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী মৃতশিল্প টিকে থাকবে, অন্যদিকে এই এলাকার বহু পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জননেতা জহুরুল হক জাহিদ বলেন, পালপাড়ার মৃতশিল্প আমাদের এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এখানকার কারিগররা তাদের পূর্বপুরুষের পেশা ধরে রেখেছেন। এই শিল্পের উন্নয়নে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। মাননীয় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, পালপাড়ার মৃতশিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হোক।
স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সরকারি উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কোচাশহরের পালপাড়ার মৃতশিল্প দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও এ পেশায় যুক্ত করে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।