
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি নেতা মো. আক্কেল সরদার। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার কথা তুলে ধরে আক্কেল সরদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক জীবনে এ পর্যন্ত ১৩টি মামলায় জড়াতে হয়েছে এবং চারবার কারাবরণ করতে হয়েছে।
এসব মামলা ও কারাবরণকে রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা আক্কেল সরদার বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি, মামলা ও নানা চাপ সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দলীয় আদর্শের পক্ষে তিনি মাঠে ছিলেন বলে দাবি করেন।
আক্কেল সরদারের দাবি, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাকে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আক্কেল সরদার বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছি। মামলা-হামলা ও কারাবরণ আমাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। ইউনিয়নের উন্নয়ন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নাগরিক সেবা সহজ ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে ইউনিয়নের সব মানুষের জন্য কাজ করার কথাও জানান এই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তার দাবি, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করে সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনতে চান। ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এদিকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন আক্কেল সরদার। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তিনি নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি সামনে এনে আক্কেল সরদারও মাঠে সক্রিয় হয়েছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন—তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটের মাধ্যমে।
আক্কেল সরদার বলেন, “আমি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। খাঞ্জাপুর ইউনিয়নকে আরও উন্নত, সুন্দর ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার জন্য দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।