
জাহিদুল ইসলাম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
শহরাঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে উপকূলীয় গ্রামীণ জনপদেও ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু। খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হঠাৎ করেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা হলেন—ঘুগরাকাঠী এলাকার সোনালী আক্তার (২০), কালিকাপুর গ্রামের শাহিনা আক্তার (২২), খেওয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন (৩৫), তালবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৫) এবং বমিয়ার রিয়াজ মোল্লা (২৩)।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শনাক্তের পর থেকেই আক্রান্তদের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রেখে বিশেষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকা কয়রায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় মশার বংশবিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমা পানি অপসারণে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ ও জনসচেতনতা না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, “আক্রান্ত রোগীরা আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াই প্রধান কাজ।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, কারও শরীরে জ্বর, শরীর ব্যথা বা তীব্র মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি মশার লার্ভা ধ্বংসে নিজ নিজ বসতবাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান এই চিকিৎসক।