
আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া বরিশাল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল আহ্বায়ক ছিলেন। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই নেতার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিকভাবে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে মোট ১৭টি মামলার আসামি হয়েছেন এবং ১৩ বার কারাবরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। এছাড়া রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একাধিকবার হামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি তার বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পর্যায়ে হামলায় তার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলেও তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও আবুল হোসেন মিয়া বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তিনি একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
এর আগে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আবুল হোসেন মিয়া। তবে ওই নির্বাচনে অনিয়ম ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বলে জানা গেছে। ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে নানা অভিযোগও তোলা হয়েছিল।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন আবুল হোসেন মিয়া। গৌরনদীর টরকী বন্দর আদর্শ জামে মসজিদের তিনি একাধিকবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মসজিদটির পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে এবং এ উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এছাড়া গাউছিয়া আবেদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সফল সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আবুল হোসেন মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। সুযোগ পেলে তিনি গৌরনদী উপজেলার উন্নয়ন, জনসেবা এবং এলাকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান।
তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে আবুল হোসেন মিয়া শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।