
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনার কয়রায় সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ শেষে নৌকায় ঘুমন্ত অবস্থায় দুই জেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিনগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সুন্দরবনের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন বাটলুয়া নদীসংলগ্ন হেতালবুনিয়া খাল এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত জেলেরা হলেন—কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামের ওসমান সরদারের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩২) এবং তাহের সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩০)। তারা ফরেস্ট স্টেশন থেকে বৈধ পাস (অনুমতিপত্র) নিয়েই সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন।
আহতদের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার কাঁকড়া আহরণ শেষে রাতে হেতালবুনিয়া খালের চরে নৌকা নোঙর করে ঘুমাচ্ছিলেন তরিকুল ও শরিফুল। গভীর রাতে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা নৌকায় উঠে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে সাইদ নামের স্থানীয় এক জেলে বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্বজনদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাঙ্কিত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার্ড) করেন।
আহত জেলেদের চাচা আব্দুল গনি সরদার বলেন, “সকালে অন্য এক জেলের ফোন পেয়ে আমরা দ্রুত ট্রলার নিয়ে হেতালবুনিয়া খালে যাই। সেখানে দুই ভাতিজাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।”
দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বনের ভেতর নৌকায় ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে কারা বা কী কারণে এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বনসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছে। হামলার শিকার পরিবারটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।