ভোলার মনপুরা উপজেলায় প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে আসা এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের তালতলা স্লুইসগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী মনপুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্তরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।
ঘটনাটি উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।ভুক্তভোগী সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার শ্রীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমীন, মাকসুদ, ইদ্রিস মাঝি, লোকমান ফরাজি ও শাহিন জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে ওই তরুণী ঢাকা থেকে মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটে পৌঁছান।
পরে তার প্রেমিক তাকে নিজ দাদির বাড়িতে নিয়ে যান।পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রেমিক তরুণীকে তালতলা স্লুইসগেট এলাকায় তার চাচার বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা বিয়ের কথা বলে প্রেমিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা দুই লাখ টাকা দাবি করে প্রেমিক-প্রেমিকাকে বিয়ে করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং টাকা না দিলে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেয়।
এক পর্যায়ে বিয়ের ব্যবস্থা হবে- এই আশায় প্রেমিকের দাদি অভিযুক্ত ইদ্রিস মাঝিকে চার হাজার টাকা দেন।ভুক্তভোগীর প্রেমিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ইদ্রিস মাঝি বিয়ের কথা বলে তাদের বাড়ি থেকে বের করেন। পরে ‘নৌবাহিনী আসছে’ বলে ভয় দেখিয়ে নতুন বেড়িবাঁধের ওপারে নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া আল-আমীন, ইদ্রিস মাঝি, লোকমান ও শাহিন তাকে ধরে মারধর করে। এক পর্যায়ে প্রেমিক পালিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চাইলে অভিযুক্তরা প্রেমিকাকে জোরপূর্বক দলবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তার মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।