1. admin@ajkerpratidin.com : admin : Khokon Howlader
  2. sardermasud348@gmail.com : Masud Sarder : Masud Sarder
  3. emranniloy53@gmail.com : NILOY :
  4. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
  5. rashedapple7@gmail.com : Rashed Ahmed : Rashed Ahmed
  6. khokon28.bd@gmail.com : Sohag Hossein : Sohag Hossein
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুবের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির ঈদের শুভেচ্ছা আমান উল্লাহ আমানের পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা নেপালে খেলবেন বাংলাদেশের সানজিদা যাত্রী সংকটে গাবতলী টার্মিনাল, কাউন্টারে পরিবহন শ্রমিকদের হাঁক-ডাক ফুলবাড়ীতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে  ঈদের উপহার সমগ্রী বিতরণ ধামসোনা ইউনিয়নে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইসরাফিল ইসলাম আশুলিয়ার ভাদাইলে ময়লার ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে হামলা–ভাঙচুরের অভিযোগ হিউম্যান ফর হিউম্যানিটি ইন্টাঃ ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল গৌরনদী আমরা আপনাদের সেবক, আমাদের সঙ্গে মালিকের মতো আচরণ করবেন: তথ্যমন্ত্রী

ধামরাই ৩ ফসলী জমিতে গড়ে তুলেছে অবৈধ ইটভাটা, হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ

আজকের প্রতিদিন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ২৫২ বার পড়া হয়েছে

সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র করে প্রভাবশালীরা ফসলী জমিতে গড়ে তুলেছে অবৈধ ইটভাটা।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে প্রায় ২১৬টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ঐ এলাকার কৃষিজমি, গাছপালা ও পরিবেশ। ইটভাটার অব্যাহত বায়দূষণের কারণে উপজেলায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইটভাটায় ফলজ ও বনজ কাঠ পোড়ানোর মহাৎসবে মেতে উঠেছে। ফলে এই ইটভাটার কারণে দিন দিন ফসলের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করেছে। কারণ পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পরিবেশ অধিদপÍরের অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমিতে এইসব ইটভাটা স্থাপন হলেও এই গুলি বন্ধের প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই।

সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ২১৬টি ইটভাটা তিন ফসলি জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন কাগজ পত্র হীন অবৈধ ইটভাটা। উপজেলার তিন ফসলি কৃষিজমিতে একের পর এক ইটভাটা গড়ে তুলেছেন প্রবাবশালীরা। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে এইসব ভাটায়। যারকারণে ট্রাকে করে মাটি ও ইট পরিবহনের কারণ ভেঙে পড়েছে ইউনিয়নের অনেক রাস্তাঘাট।

এছাড়া ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আশেপাশের বাড়ীঘর। যার কারণে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কৃষিজমি এবং ভাটার ধোঁয়ার কারণে ফল হচ্ছে না কোন গাছে।কৃষিজমিতে ভাটা স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র নিয়ে ভাটা স্থাপনের অনুমতি পেয়ে যাচ্ছে ভাটা মালিকগণ। আবার অধিকাংশ ইটভাটার মালিকেরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রসাশনকে ম্যানেজ করে গড়ে তুলেছেন অবৈধ ইটভাটা। আর এই অবৈধ ইটভাটা থেকে টাকার বিনিময়ে বৈধতা দিয়েছে ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির ধামরাই উপজেলার সদস্যরা।

ইটভাটার মালিক সমিতি ভাটা প্রতি ২৫ হাজার টাকা নিয়ে অনুমতি দেয় বলে জানাগেছে। এবং লাইসেন্স বিহিন ইটভাটার মালিকের কাছ থেকে প্রায় ৫ লক্ষাধীক টাকা নিয়ে অনুমতি দেওয়া হয় বলে সুত্র জানায়। ফলে ইটভাটার মালিকেরা নিয়মনিতির তোয়াক্কা না করে যততত্র ভাবে গড়ে তুলেছে অবৈধ ইটভাটা।এসব ইটভাটার কারণে আশেপাশের বাড়ী ঘরে থাকা বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ ও ফসলী জমিতে কোন ধরনের ফসল ও ফল হইচ্ছে না বলে এলাকাবাসির জানান। এবং মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগভালায় ঝেঁকে বসতে শুরু করেছে বলে দাবি তাদের। বিভিন্ন স্কুল এন্ড কলেজের সাথে ইটভাটা গড়ে উঠার কারণে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের শ্বাসের কষ্ঠে রোগটি বেশি বলে অভিজ্ঞ ডাক্তারা ধারনা করছে।

এছাড়া রাস্তার পাশ দিয়ে চলাফেরা করা যায়না কারণ মাটির ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ার কারণে মাটি পড়ে রাস্তা, এতে ধুলো হয়, সেই কারণে রাস্তা দিয়ে মানুষ চলা চল করতে গেলে ধুলো দিয়ে সারা শরীর ডেকে যায়। যার কারনে মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে।এতে করে জনস্ব্যাস্থ মারাত্বক হুমকির মুখে পড়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে ধামরাই উপজেলায় প্রায় ২১৬টি ইটভাটা রয়েছে এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড় পত্র রয়েছে মাত্র ৪০-৫০টিতে বাকি ইটভাটা গুলিতে কোন ছাড়পত্র নেই বলে জানাগেছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের টেড্রলাইসেন্স দিয়ে এই ইটভাটা গুলি চলছে বলে জানাগেছে।এছাড়া কিছু ইটভাটা আছে সেই গুলিতে কোন কাগজ পত্র নেই শুধু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা। ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তারা পরিবেশের যে মারাত্বক ক্ষতিসাধন করতেছে তা মানব জীবনের জন্য হুমকি স্বরুপ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সুত্রে জানাগেছে ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন (২০১) ধারায় সম্পুর্ণ ভাবে উল্লেখ আছে যে, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ব্যাতিত কোন ব্যাক্তি ইটভাটা প্রস্তুত করতে পারবে না। ঐ আইনে আরও উল্লেখ করা আছে তিন কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ী ঘর ও বসতি এলাকা ফলজ ও বনজ-বাগান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলে ইটভাটা অনুমোদন হবে না। কিন্তু ধামরাই উপজেলায় সেই আইনের তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটভাটা যেগুলি মানুষের বসতীয় বাড়ী ঘরের কাছে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফলজ ও বনজ বাগানের নিকটে। এতে মানুষ ও ফসলের জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

ধামরাই উপজেলার ইটভাটার মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ আব্দুর রশিদ জানান,সারা উপজেলায় প্রায় ২১৬টি ইটভাটা রয়েছে তার মধ্যে বৈধ-কাগজ-পত্র রয়েছে মাত্র ৭০-৯০টিতে এবং প্রতিটি ইটভাটায় জমি লেগেছে প্রায় ৩৫-৫০বিভা করে।ইটভাটার মালিকরা ক্ষমতাশীল হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা হামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়। যার কারণে কেউ কিছু বলেনা। এই ব্যাপারে প্রশাসনকে জানালে তারা ইটভাটার মালিকদের সাথে মিলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে কিছু না বলে চলে আসে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে ধামরাইয়ে ফসল চাষ করার জন্য কোন জমি পাওয়া যাবেনা বলে ধারনা করছে এলাকার লোকজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটা সংলগ্ন বাসিন্দারা বলেন, যে সকল জমিতে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে ধান ও সবজি চাষ হতো। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে আশেপাশের সব জমি অনাবাদী হয়ে পড়েছে। এছাড়া কুষি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ার সময় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে করে আশেপাশের জমি গর্তে ভেঙে পড়ছে। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আহম্মেদুল হক তিতাস জানান, হাচি,শ্বাসকষ্ট ,হাপানি কাশিসহ ক্যান্সার রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ভাটার কালো ধোঁয়া শিশুদের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তাছাড়া যাদের হাপানি, শাসকষ্ট রোগ রয়েছে তাদের জন্য আরো ভয়ঙ্কর। এছাড়া রাস্তার ধুলাবালুর কারণে পরিবেশের মারাক্ত ক্ষতি করছে।এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান জানান, ইটভাটার কারনে দিন দিন কমে আসছে, ফসলি জমির পরিমান। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৬বছরে ধামরাই উপজেলায় খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা হ্রাস পাবে।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, ইটভাটা নিয়ে আমাদের অভিযান চলতে থাকবে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এর বিকল্প হিসাবে ইটভাটার মালিকদের বল্কক ইট তৈরির দিকে উৎসাহ করবো।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান ©২০১৮-২০২৬ ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Design BY POPULAR HOST BD