
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তাপ এখন আর শুধু স্টেডিয়াম কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই; সেই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের কাঁচাবাজারেও। প্রিয় দলকে ভালোবাসার প্রকাশে কেউ বাড়ির ছাদে ওড়ান পতাকা, কেউ রাঙান দেয়াল, আবার কেউ সাজিয়ে তোলেন নিজেদের যানবাহন। তবে ঠাকুরগাঁওয়ে এক সবজি ব্যবসায়ী ফুটবলপ্রেমকে রূপ দিয়েছেন এক ব্যতিক্রমী ব্যবসায়িক আয়োজনে, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপদ—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গোবিন্দনগর কাঁচাবাজারের আড়তে কাওসার আলীর সাধারণ একটি সবজির দোকান এখন সবার কাছে পরিচিত ‘আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডার’ নামে। নীল-সাদা আর্জেন্টিনার পতাকা, ব্যানার ও সাজসজ্জায় পুরো দোকানটি যেন ছোট্ট এক ‘আলবিসেলেস্তে কর্নার’। আর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এলে প্রতি কেজি সবজিতে মিলছে ১০ টাকা পর্যন্ত ছাড়। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের অন্য সব দোকানের তুলনায় কাওসার আলীর দোকানে উপচে পড়া ভিড়। কেউ ছাড়ের সুবিধা নিতে জার্সি পরে এসেছেন, কেউ আবার শুধু ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি একনজর দেখতে। অনেকে দোকানের সামনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রাহান বলেন, “ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে অনেক আয়োজন দেখেছি, কিন্তু জার্সি পরে সবজি কিনলে ছাড়—এমন ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম। বাজারও হলো, আবার প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারলাম।”
আর্জেন্টিনা সমর্থক আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি কিছু কিনতে আসিনি। শুধু এই দোকানটি দেখতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে তিন বন্ধুকে নিয়ে এসেছি। এমন উদ্যোগ সত্যিই অসাধারণ।”মজার বিষয় হলো, শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকরাই নন, প্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিলের সমর্থকরাও ভিড় করছেন দোকানটিতে। ব্রাজিল সমর্থক মিলন বলেন, “আমি ব্রাজিলের ভক্ত। তবুও কাওসার ভাইয়ের এই উদ্যোগের কথা শুনে দেখতে এলাম। সাজসজ্জা আর ছাড়ের বিষয়টি দারুণ লেগেছে।”নিয়মিত ক্রেতা মঞ্জু বলেন, “বাজারে ঢুকেই দোকানটি চোখে পড়ে। কৌতূহল থেকেই কেনাকাটা করতে যাই। জার্সি না থাকায় ছাড় পাইনি, তবে উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”দোকানের মালিক কাওসার আলী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই সেই ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। তাই দোকানটিকে আর্জেন্টিনার রঙে সাজিয়েছি। ক্রেতাদের আনন্দ দিতেই জার্সি পরে এলে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছি।”স্থানীয়দের মতে, কাঁচাবাজারে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আগে কখনো দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের আগ্রহ। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি এখন এক ধরনের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বকাপের আবেগ যখন কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের এই ‘আর্জেন্টিনা সবজি ভাণ্ডার’ প্রমাণ করে দিয়েছে ফুটবল কেবল ৯০ মিনিটের একটি খেলা নয়; এটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রকাশ। একটি সাধারণ সবজির দোকান আজ পরিণত হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায়, আর কাওসার আলীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনার এক অনন্য প্রতীক।