
স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী :
টানা বর্ষণে জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট, নিম্নাঞ্চলে পানি জমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাএা ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবি মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টির কারনে অনেক সড়কে পানি জমে মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
নরসিংদী জেলার সদর, রায়পুরা, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব ও পলাশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাস্তাঘাটে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অনেক এলাকায় সড়ক কাদাময় হয়ে পড়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সকালের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও দুপুর ও বিকেলে আবারও ভারী বর্ষণে শহর ও গ্রামাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নরসিংদী পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি এবং বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে উঠেছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। শহরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। দিনের বড় একটি সময় দোকানপাট ফাঁকা থাকায় ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত বিক্রি করতে পারছেন না। কাঁচাবাজারে সবজি, মাছ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনতে পরিবহন সংকট দেখা দেওয়ায় কিছু কিছু পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। টানা বৃষ্টির কারণে তারা নিয়মিত কাজ করতে না পারায় আয় কমে গেছে।
জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বৃষ্টিতে ভিজে ও বাস্তায় জমে থাকা পানির ওপর দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের নিয়ে জলাবদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক পাড়ি দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। অফিসগামী মানুষও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
কৃষি খাতেও টানা বৃষ্টির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের বীজতলা, শাক-সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমির সবজি চাষিরা উদ্বেগে রয়েছেন। কৃষকদের মতে, আরও কয়েকদিন একইভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে অনেক জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে পুকুর ও মাছের ঘেরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মাছচাষীও ক্ষতির শঙ্কা করছেন।
নদী-তীরবর্তী চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। টানা বর্ষণের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, জ্বর, ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।
এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও নির্মাণকাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ইট, বালু ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় অনেক প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, খাল-নালা পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। সব মিলিয়ে টানা কয়েকদিনের বর্ষণে নরসিংদীর জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
নরসিংদী শহরের ডিসি রোড়ে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারনে রিক্সা ও অটোরিকশা ভাড়া যাএীদের নিকট থেকে ডবল নেয়া হচ্ছে। স্হানীয়দের দাবি ডিসি রোডে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্হা করা হোক। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জন দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা অনেকেই করছেন।