
রাষ্ট্র সংস্কারের নানা চেষ্টা, মব সন্ত্রাস, প্রাণঘাতী ভূমিকম্প, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুসহ বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে শেষ হলো ২০২৫ সাল। নানা চড়াই-উতরাই ও ঘটনার পরম্পরায় বিশ্বজুড়ে শুরু হলো খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৬।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার আকাশে দেখা যায় বর্ণিল আলোর ঝলকানি, যা নতুন বছরের আগমণী বার্তা নিয়ে আসে।
তবে এবার এমন এক সময়ে নতুন বছর কড়া নাড়ল, যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তার ইন্তেকালের পর থেকে পুরো জাতি শোকস্তব্ধ। এই শোকের আবহ বিবেচনায় নিয়ে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ বরণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছিল।
মঙ্গলবার ডিএমপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, “রাষ্ট্রীয় শোকের সময়ে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।”
এছাড়া উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি বা শোভাযাত্রা না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছিল।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, শোকের আবহ ও প্রশাসনের জারি করা এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও ঢাকার রাতের আকাশে রঙিন আতশবাজির ঝলকানি, ফানুস ও গ্যাস বেলুন উড়তে দেখা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মুহুর্মুহু শব্দে আতশবাজি ফোটানো হয়, যা ডিএমপির নির্দেশনার এক ধরনের লঙ্ঘন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বুধবার রাত থেকেই ক্যাম্পাসের সব প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাইরের কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালটি বাংলাদেশের জন্য ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। ২১ নভেম্বর নরসিংদী কেন্দ্রিক ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ১০ জনের মৃত্যু ও কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার ক্ষত এখনো জনমনে টাটকা। তার ওপর বছরের শেষ দিকে তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরা এবং বছরের একদম শেষ মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ সব মিলিয়ে এক মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালকে বরণ করে নিল বাংলাদেশ।