
শেখ মো. ইব্রাহীম, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সূর্যের আলো ঠিকমতো না পাওয়ায় হলুদ ও ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করেছে ধানের চারাগাছ। গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা নেই সরাইলে। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে গোটা উপজেলা জুরে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড ৭ হাজার ৬৫ হেক্টর উফসী ৬ হাজার ৪২০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টর । এর বিপরীতে কৃষকরা ৭৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। এর মধ্যে হাইব্রীড ৫৪৫ হেক্টর উফসী ৩৭৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২হেক্টর।
কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এভাবে শীত থাকলে বোরো আবাদের জন্য বিছন পাওয়াই সমস্যা হবে। রসুলপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও সূর্যকান্দি গ্রামের শাহ আলম মিয়া জানান, গত কয়েক দিনের প্রচন্ড শীতে ও ঘন কুয়াশায় তাদের তিন ভাগের একভাগ বীজতলার বোরো ধানের চারাগাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। তারা বলেন, চারাগাছগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করে প্রায় মরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান আবাদ কিভাবে করবো তা নিয়ে খুবই চিন্তায় দিনাতিপাত করছি। এ সমস্যায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের বীজতলায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া, বীজতলায় সকালে জমে থাকা শিশির কনা ছাড়িয়ে দেওয়া, রাতে পানি সেচ দিয়ে সকালে বের করে দেয়া ও জমিতে নির্দিষ্ট পরিমান সার প্রয়োগসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এমরান হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতে উপজেলায় পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না থাকায় চারাগাছের পাতাগুলো ঠিকমতো খাদ্য তৈরি করতে পারছে না। তাই চারাগাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের উপ-সহকারি কৃষি কর্মাকর্তাগন মাঠে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বীজতলা পুনরায় ঠিক হয়ে যাবে এবং পাতাগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করবে।