
জাহিদুল ইসলাম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ নদী ভাঙনের কবলে সব হারিয়ে ঠাঁই হয়েছিল পাউবোর বেড়িবাঁধের ধারে। ভেবেছিলেন মাথা গোঁজার এক চিলতে ঠাঁই আর কপোতাক্ষের শান্ত স্রোতেই কেটে যাবে জীবন। কিন্তু লোনা পানির গ্রাস আর প্রভাবশালীদের দাপট সেই শান্তিতেও হানা দিয়েছে। খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে লোনা পানি উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় রাবেয়া খাতুন নামের এক ভূমিহীন নারীকে বর্বরোচিতভাবে মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আহত রাবেয়া খাতুন নিজের শরীরে ওপর হওয়া সেই ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাবেয়া খাতুন জানান, নিজেদের কোনো জমিজমা না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করছেন। গত ২ মার্চ সকালে একই গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুল্যাহ, সবুর শেখ ও লিমন সরকারি বেড়িবাঁধে ‘নাইটি’ (পাইপ) বসিয়ে লোকালয়ে লোনা পানি ঢোকানোর চেষ্টা করে।
লোনা পানি ফসলি জমি ও পরিবেশের ক্ষতি করবে—এমন আশঙ্কায় রাবেয়া খাতুন বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে রাবেয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। এলোপাতাড়ি মারধরে মারাত্মক জখম হন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত রাবেয়া জানান, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও ভীতি কাটেনি তার। বরং প্রভাবশালী ওই মহলটি পাইপ বসিয়ে লোনা পানি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এখানেই শেষ নয়, প্রতিবাদ করায় ওই ভূমিহীন পরিবারটিকে এলাকা ছাড়া করাসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
”আমরা ভূমিহীন বলে কি আমাদের বিচার পাওয়ার অধিকার নেই? ওরা নদের চর ভরাট করে অবৈধভাবে ৫০ বিঘা জমি দখল করেছে। এখন পাইপ দিয়ে লোনা পানি তুলে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিতে চাইছে।” এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই কপোতাক্ষ নদের পাড় দখল করে মৎস্য ঘের পরিচালনা করছে। বেড়িবাঁধ ফুটো করে লোনা পানি তোলায় একদিকে যেমন বাঁধের স্থায়িত্ব কমছে, অন্যদিকে লবণাক্ততা বেড়ে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন অবৈধ লোনা পানি উত্তোলনের পাইপ অপসারণ এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইনি সহযোগিতা কামনা করেছেন।