
অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দিনে দিনে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পৌর এলাকা, গ্রাম- গঞ্জে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। বেশির ভাগ বড়লোকের বখাটে যাওয়া তরুণরা মাদক সেবার বেশি আসক্ত। সেই সাথে মধ্যবৃত্ত ও গরীবের সন্তানেরাও মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়েছে। বাবা মা সন্তান কে নেশা টাকা দিতে না পারলে মা, বাবার ওপর সন্তান অমানবিক নির্যাতনের কথাও শোনা যায়।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্হানে অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েক মাদক ব্যবসায়ীরা দিন নিরব থাকে। আবার শুরু হয় মাদক ব্যবসা। মাদকাসক্তির কারনে তরুণ ও যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে। ফলে , চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অনৈতিক ও অপরাধ মূলক কাজে তারা জড়িয়ে পড়ছে।
কালিয়াকৈর উপজেলার সোনাতলা বাজারে ৫১ কেজি গাঁজা সহ ২ জন গাঁজা সরবরাহকারীকে আটক করে জনতা। সোমবার সন্ধ্যায় মৌচাক – ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে সোনাতলা বাজার এলাকায় গাড়ীর ডাইভার মানিক মিয়া (৩৭) ও রবিন মিয়া (৩৫) নামের ২ জনকে গাড়ী সহ আটক করে জনতা। গাঁজা সরবরাহকারী ব্যক্তিরা ( গাড়ী ঢাকা মেট্রো-ন ২০ – ৬৮০৫) গাড়ীতে অভিনব কায়দায় বস্তার মধ্যে কাঠের গুড়ির বস্তার নিচে ও ভিতরে গাঁজা ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছিল।
বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলাল উদ্দিন মেম্বারের সহযোগিতায় গাঁজা সহ ট্রাকটি জনতা আটক করতে সক্ষম হয়।
আলাল উদ্দিন মেম্বার জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে তিনি প্রচারনা করেছেন। গণসচেতনতা, যুব সমাজকে মাদকাসক্ত থেকে মুক্তির চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে করছেন। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গ্রামে গ্রামে মাদক বিরোধী প্রচারনা করা হচ্ছে । তিনি মাদক প্রতোরোধে এলাকার মাইকিং করেছেন বলে জানা যায়। অবশেষে অনেক চেষ্টার পর সোমবার ৫১ কেজি গাঁজার চালান ধরা পড়ে।
বোয়ালী নরেন্দ্র নারায়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহেল রানা জানান, যুব সমাজকে মাদক মুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি। এলাকার বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষকে নিয়ে গণসচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি । কিন্তু মাদক সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে যুব সমাজ গাঁজাসহ বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে । যুব সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। এলাকার সচেতন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বন্ধের চেষ্টা করছে । কালিয়াকৈর উপজেলা ফুলবাড়িয়া, মধ্যপাড়া, বোয়ালী, সূএাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গাঁজা সেবনকারী দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত গরিবের সন্তানরা গাঁজা সেবনে জড়িয়ে পড়ছে।
একটি সূএে জানা যায়, বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে কিছু সংখ্যক অটোরিক্সা চালক স্হানীয় ভাবে মাদক সরবরাহের সাথে জড়িত আছে। এ সব অটো রিক্সা চালক মাদক সেবনকারীদের হাতে মাদকদ্রব্য পৌঁছে দেয়। মাদক বহনকারী রিক্সা চালকদের মেজাজে প্রায় সব সময় গরম থাকে। এদের এলাকার কেউ কিছু বললে তাদের হাত পা ভেঙ্গে দেবার হুমকি দেয়। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। মানুষ একদিন এ সব অটোরিকশা চালকদের মাদক সহ ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করবে বলে সচেতন মানুষ মনে করেন।
জানা যায়, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলা আখাউড়া থেকে মাদক ব্যবসায়ী মামুন মিয়া গাঁজা সহ ট্রাক পাঠিয়েছে। গাঁজা সহ ট্রাক আটকের পর মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। সোমবার রাত ৯ টায় কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে গাঁজা ও আটক ২ জনকে থানায় নিয়ে যায়। এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
মাদকদ্রব্য গ্রহণ করে তরুণরা নেশাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে । মাদকাসক্তির কারনে সমাজে অবক্ষয় ঘটেছে। মাদকাসক্তরা চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ জড়িয়ে পড়ছে। মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কোন মানুষ প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। কালিয়াকৈরের প্রত্যন্ত গ্রামেও হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদকদ্রব্য।
হেরোইন, কোকেন, মরফিল, প্যাথডিন, অ্যালকোহল, দেশীয় মদ, গাঁজা, ভাঙ, অফিম। এ সব মাদক সেবনের ফলে যুব সমাজ শারীরিক ও মানষিক উভয় প্রকাশ ক্ষতি সাধন হয়।
মাদক প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি স্হায়ীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, শিক্ষক, বে- সরকারি সংগঠন, মসজিদের ইমাম, জন প্রতিনিধি, পিতা মাতা, এলাকার সচেতন মানুষসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ কে মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।