
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় সাইম হোসেন (২৬) নামের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টার সময়ে আশুলিয়ার ওয়ার্ড নং-০৬ এর চিত্রশাইল এলাকায় অবস্থিত “বক্তার নগর খান ভিলা” নামের একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাইম হোসেন মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ভাটিপাড়া এলাকার উহাব মুন্সীর ছেলে। তার মায়ের নাম আছিয়া বেগম।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাইম হোসেন আশুলিয়ায় বসবাস করে ফার্নিচারের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তার স্ত্রী সেতু বেগম জানান, তাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো ধরনের কলহ বা পারিবারিক অশান্তি ছিল না। তবে ব্যবসায়িক লেনদেন ও পাওনাদারদের চাপ নিয়ে তিনি প্রায়ই মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগতেন।
নিহতের স্ত্রী আরও জানান, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সাইম হোসেন মোবাইলে একটি সিনেমা দেখছিলেন। পরে ঘুমানোর কথা বলে মোবাইল ব্যবহার করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে পাশে না পেয়ে বাসার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাসার বারান্দার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয়। রুমের জানালা দিয়ে তিনি সাইম হোসেনকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন।
খবর পেয়ে আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, সাইম হোসেন ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। এলাকায় কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ বা ঝামেলার কথা তারা জানেন না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আবু তালেব বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হবে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে ঘটনাটিকে ঘিরে কিছু অসঙ্গতির অভিযোগও উঠেছে। বাড়ির মালিক ও ম্যানেজারের বক্তব্যে মিল পাওয়া যায়নি। বাড়ির মালিক দাবি করেন, ম্যানেজারকে মাত্র দুই মাস আগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ম্যানেজার জানান, তিনি গত সাত মাস ধরে সেখানে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ম্যানেজারের দাবি, রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভি কার্যকর ছিল না এবং তিনি সে সময় গেটেই অবস্থান করছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।