
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানা পুলিশের যৌথ বিশেষ অভিযানে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার জাল নোটসহ একটি সংঘবদ্ধ জাল নোট চক্রের সাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জাল নোট সংগ্রহ করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী এলাকায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পৌর শহরের হোটেল প্রাইম ও হোটেল সালামে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে চক্রের সাত সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত নোটগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকল নোট শনাক্ত করা কঠিন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার আরিফ হোসেন (৪০), মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার এমরা হোসেন (৪৮), কিশোরগঞ্জের চন্দন মিয়া (৩২), ঢাকার মিরপুর এলাকার শেখ মোহাম্মদ নাসিম (২৮), ফরিদপুরের সোহেল খান (২৮), ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহুল আমিন (৫২) এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ইসমাইল হোসেন (৩২)।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা একটি সক্রিয় জাল নোট সিন্ডিকেটের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জাল নোট সংগ্রহ করে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, জাল নোটের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের মতে, পুলিশের এই অভিযানে একটি বড় জাল নোট চক্রের কার্যক্রম উন্মোচিত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে জাল নোটসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।