পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা তথা শেষ পর্যায়ের ভোটগ্রহণ বুধবার (২৯ এপ্রিল) মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা সামনে এলেও বড়সড় সহিংসতা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, যা এবারের নির্বাচনে এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নদিয়ার শান্তিপুরে বিজেপির ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বীজপুরে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে বচসা হয় এবং সেখান থেকে দুজন ভুয়া ভোটারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে, ভোট দিতে গিয়ে একজন ৮১ বছর বয়সী প্রবীণের অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
তবে ২০২৬-এর নির্বাচন-সহিংসতায় কারো প্রাণহানির খবর মেলেনি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক হিংসায় ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, আহত হয়েছিলেন ১৬৯১ জনের বেশি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে সহিংসতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত বলেই দাবি করা হচ্ছে।
অপরদিকে এদিন রাজনৈতিক তরজাও ছিল তুঙ্গে। ভবানীপুরে ভোট দেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে তৃণমূলই সরকার গড়বে।’ পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কলকাতায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়া মানেই পরিবর্তনের পক্ষে জনমত, তৃণমূলের হার নিশ্চিত।’
ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার জনমত জরিপে বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এ ধরনের সমীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকেই। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী ৪ মে। তখনই স্পষ্ট হবে, পশ্চিমবঙ্গে পরবর্তী সরকার কোন রাজনৈতিক দল গঠন করতে চলেছে। একইসঙ্গে নজর থাকবে, নতুন সরকার প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা মজুত রাখে।