
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগরের নিরিবিলি এলাকার বাঁশতলা ফকির বাড়ি মোড় (প্রফেসর বাড়ি) এলাকায় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা এসকে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বাদীসহ কয়েকজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে শফিকের কাছ থেকে চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র পাওয়া গেলেও সেগুলো জব্দ করে পৃথক কোনো মামলা করা হয়নি। পরে অন্য একটি মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসার পর ফের হুমকির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শফিকের কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা একটি চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলার জন্য তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ফেলেন।
খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পরিচয় জানতে চাইলে শফিক নিজেকে ‘স্পেশাল ক্রাইম রিপোর্টার ৬৪ জেলা’ এবং গণঅধিকার পরিষদের একজন নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলেও জানান।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের দিকেও চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সাংবাদিক ও স্থানীয়রা আশুলিয়া থানায় একাধিকবার ফোন করেও সহযোগিতা না পেয়ে ৯৯৯-এ কল করেন বলে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ওই সময় শফিকের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি হকিস্টিক ছিল বলে দাবি করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অস্ত্র থাকার বিষয়টি সামনে আসার পরও প্রথমদিকে তাকে আটক করা হচ্ছিল না। পরে এলাকাবাসী ও উপস্থিত জনতার চাপের মুখে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু তার কাছে থাকা কথিত অস্ত্র জব্দ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অস্ত্র জব্দ না করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, শফিক তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নিজের নিরাপত্তার জন্য চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র রাখার কথা জানিয়েছে।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্য একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে আশুলিয়া থানায় ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলা নং-১২৬ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে। ওই মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে এসে বাদীসহ সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের সামনে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগের পরও অস্ত্র জব্দ না করা এবং পরবর্তীতে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফের হুমকির অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, কথিত অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা এবং হুমকির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এসকে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।