
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় পোশাক কারখানার সামনে গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী একটি লরিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার সীমানা ঘেঁষা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর নাম মোছাম্মৎ জয়নব বেগম (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী। বিস্ফোরণের সময় একটি সিলিন্ডার ছিটকে এসে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান তার মেয়ে সানজিদা আক্তার।
সানজিদা জানান, ঘটনার সময় তিনি জামগড়ায় একটি দর্জির দোকানে কাজ করছিলেন এবং তার মা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং একটি সিলিন্ডার ছিটকে এসে তার মায়ের মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনায় সানজিদার ছেলেও আহত হয়েছে।
স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জন আহতকে নেওয়া হয়। হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন অর রশীদ জানান, আহতদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে ডিইপিজেড ও জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ৮টা ৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী বিশেষ লরিতে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এটি গ্যাস সিলিন্ডার নাকি বয়লার থেকে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। বিস্ফোরণের চাপে বিভিন্ন লোহার ও পাইপের টুকরো ছিটকে পড়ে আশপাশের রাস্তা ও বাড়িঘরেও আঘাত হানে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন পথচারী ও রিকশাচালকও আহত হন।
প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন জানান, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। আগুন মূলত কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের একটি কোণায় লাগে।
আগুনে কারখানার কম্পাউন্ডে থাকা অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি কাভার্ড ভ্যান পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।