
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জে কমছে না বিদ্যুতের লোডশেডিং। দিনের পর দিন ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। কখন বিদ্যুৎ থাকবে, আর কখন চলে যাবে—এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। অনেকের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ যেন চলছে লুকোচুরি খেলায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু দিনেই নয়, রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বাড়ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ব্যবসা, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় পানির মোটর চালাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বাড়তি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের আগস্টেও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ের অভিযোগ ওঠে। সে সময় জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এর আগে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জেলার দৈনিক চাহিদার তুলনায় গড়ে ১৫ থেকে ২০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছিল।
এদিকে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো না পেলেও অনেকের বিল তুলনামূলক বেশি আসছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জেলার বাসিন্দাদের দাবি, লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ স্পষ্টভাবে জানিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।