
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার আশুলিয়ায় এক ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদা দাবি এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম রফিকের আশুলিয়ার কান্দাইল কামরুলের মোড় কাঠালতলা বাজারের পূর্ব পাশে “মাহিম ইলেকট্রনিক্স” নামে একটি দোকান রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে অভিযুক্ত মিলন মাষ্টার তার দোকান থেকে বাকিতে একটি এলইডি টিভি ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করেন। পরবর্তীতে পাওনা টাকা চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে ঘুরাতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা আরও কয়েকজন সহযোগীকে দিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। সর্বশেষ গত ১১ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার দোকানে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি কারণ জানতে চাইলে তাদের হাতে থাকা লোহার রড ও পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
এসময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার বড় ছেলে মাইনুল ইসলামকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলার সময় তার স্ত্রীর কোলে থাকা দুই বছরের শিশু সন্তানকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার পকেটে থাকা ব্যবসার ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহত রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী পরে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এদিকে ভুক্তভোগীর স্ত্রী দাবি করেন, তার স্বামী মোঃ তহিদুল ইসলাম মিলন আশুলিয়া থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।