
আশুলিয়া (ঢাকা) : ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তাজপুর মুন্সীবাড়ীর ঘাট এলাকায় প্রায় ৯৫ লাখ ২১ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ জুন আশুলিয়া থানায় স্থানীয় বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন সরকার বাদী হয়ে জিডি নম্বর-৩৯৬ দায়ের করেন। জিডিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ‘হাজী শরিয়ত উল্লাহ ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুকুর খনন, রাস্তা নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং ঘাট বাঁধানোর কাজ চলছে। তবে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে প্রায় ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তাজপুর নামাপাড়া মুন্সীবাড়ী সড়কের পাশের খাস পুকুর থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে রাতের আঁধারে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
জিডিতে ঠিকাদার আজম, তার সহযোগী মিজান এবং স্থানীয় খন্দকার রশিদ ওরফে তারা মিয়া-র নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এভাবে মাটি উত্তোলনের কারণে সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সরকারি সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রশীদ তারা এবং স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন নেতার যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিত হয়ে পুকুরপাড়ের গাছ কেটে বিক্রি এবং মাটি বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি তাদের।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বিভিন্ন দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।
এদিকে অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকল্প এলাকা সংলগ্ন জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে ঢাকার বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা নং-৫৪৮/২০২৫ বিচারাধীন রয়েছে। মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম সরকারসহ অন্যরা আদালতে দাবি করেছেন, সম্পত্তিটির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ না করার প্রয়োজন রয়েছে। অথচ বিচারাধীন অবস্থাতেই সেখানে উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।