
রিপোর্ট : মোঃ মাসুদ সরদার নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা |
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব একটি গভীর ও জটিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো একক আদর্শ, দর্শন বা চিন্তার আধিপত্য মানবসভ্যতার জন্য স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারে না। বরং সব ধরনের বৈচিত্র্য, ভিন্নমত ও আদর্শের অবাধ আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব, যার জন্য মুক্ত ও দায়িত্বশীল বুদ্ধিচর্চা অপরিহার্য।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি অভিজাত হোটেলে বৈশ্বিক গবেষণা, সংলাপ ও জ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠির আয়োজন করে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশন।
এতে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই। স্বাগত বক্তব্য দেন আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জার্নালের সম্পাদক-ইন-চিফ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তি, বিভাজন ও ভাসাভাসা আলোচনার প্রবণতা বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিশ্বাসযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট গবেষণাভিত্তিক আলোচনা ও জ্ঞানচর্চার একটি নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। কোনো একক পরিচয় বা গোষ্ঠী বিশ্বে স্থায়ী আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। তাই সব মতাদর্শের গবেষক ও চিন্তাবিদদের মানবকল্যাণে একটি অভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার বৈচিত্র্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মত প্রকাশ করবেন এবং সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতবিনিময় হবে—এটাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি।
তিনি বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি—এই চার ভাষায় জার্নালটি প্রকাশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বহুভাষিক জ্ঞানচর্চা বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই বলেন, মুসলিম বিশ্বের সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল-উম্মাহ বিশ্বজুড়ে গবেষক ও চিন্তাবিদদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করবে এবং মুসলিম উম্মাহর সমসাময়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আজকের প্রতিদিন / মোঃ মাসুদ সরদার