ফুটবল কখনো কখনো সাহসের পুরস্কার দেয়, কখনো আবার নির্মমতার গল্প লেখে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১০ জন নিয়ে প্রাণপণ লড়াই করেছে আর্জেন্টিনা।

ফুটবল কখনো কখনো সাহসের পুরস্কার দেয়, কখনো আবার নির্মমতার গল্প লেখে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১০ জন নিয়ে প্রাণপণ লড়াই করেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করেন লামিনে ইয়ামাল। তবে সংকীর্ণ কোণ থেকে নেওয়া তার শট ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। এরপর একের পর এক আক্রমণে স্পেন চাপ বাড়াতে থাকে। কুকুরেয়া, ওয়ারজাবাল, অলমো ও ইয়ামালের চেষ্টায় বারবার কেঁপে ওঠে আর্জেন্টিনার রক্ষণ, কিন্তু শেষ বাধা হয়ে দাঁড়ান মার্তিনেস।
অন্যদিকে পুরো প্রথমার্ধে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন মেসি। স্পেনের উচ্চ প্রেসিংয়ের কারণে খুব কমই বল পেয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিরতির আগে আর্জেন্টিনা গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো শটই নিতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। স্পেন একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও দুর্দান্ত গোলরক্ষণে দলকে ম্যাচে রাখেন মার্তিনেস। ৬৭ মিনিটে ফেরান তোরেসের হেড, ৭৬ মিনিটে পেদ্রির শট এবং ৮১ মিনিটে লাপোর্তের হেড; সবই রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
ম্যাচের শেষদিকে নাটকীয় মোড় নেয় ফাইনাল। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনসো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। এরপর লামিনে ইয়ামালের ফ্রি-কিকও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ নিয়ে যান মার্তিনেস।
অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই একাধিক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের গোল ভিএআরে বাতিল হয়। ৯৮ মিনিটে আরেকটি গোলও বাতিল হয় স্বাগতিকদের। তবে শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি।
১০৭তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের দারুণ হেডে নামানো বল ধরে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ চালায় আলবিসেলেস্তেরা। ১১৭ মিনিটে মেসির শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। ১২০ মিনিটে তার ক্রস থেকে কর্নার আদায় করে আর্জেন্টিনা।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে ম্যাচের সেরা সুযোগ। মেসির কর্নার থেকে বল পেয়ে জুলিয়ানো সিমেওনে ফাঁকা অবস্থায় ডান পায়ের শট নেন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল উড়িয়ে মারেন গোলের ওপর দিয়ে। সেটিই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ বড় সুযোগ।
শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে তারা, আর হতাশায় ভেঙে পড়েন মেসি ও তার সতীর্থরা।