২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি শৃঙ্খলার দিক থেকেও বড় ধাক্কা খেয়েছে আর্জেন্টিনা।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনসো ফের্নান্দেসকে।
মজার বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার এই তিনটি লাল কার্ডের ইতিহাসই ৩৬ বছরের ব্যবধানে বাঁধা। ১৯৯০ সালের রোম বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া ফাইনালে পেদ্রো মোনসোন এবং গুস্তাভো দেসোত্তি লাল কার্ড পেয়েছিলেন; আর দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০২৬-এ এসে সেই তালিকায় যুক্ত হলেন এনসো।
১৯৯০ সালের সেই ফাইনালে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মোনসোন লাল কার্ড দেখে ইতিহাস গড়েছিলেন। এরপর ৮৭ মিনিটে দেসোত্তি লাল কার্ড দেখলে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র দল হিসেবে ৯ জন খেলোয়াড় নিয়ে ফাইনাল শেষ করার নজির গড়েছিল আর্জেন্টিনা।
লাল কার্ডের এই তালিকায় আর্জেন্টিনার ঠিক পেছনেই রয়েছে ফ্রান্স (২টি)। ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে মার্সেল দেসাইলি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও ফরাসিরা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েই মাঠ ছাড়ে। তবে আট বছর পর ২০০৬ সালের ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁস (মাথা দিয়ে আঘাত) মেরে জিনেদিন জিদানের দেখা লাল কার্ডটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হয়ে আছে।
ফাইনালের ইতিহাসে সর্বশেষ লাল কার্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১০ সালে। সেবার অতিরিক্ত সময়ের ১০৯ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখেন নেদারল্যান্ডসের জন হেইতিঙ্গা। আর তার মাঠ ছাড়ার ঠিক ৭ মিনিট পরেই ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোলে প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন।
বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়া ৬ ফুটবলার:
পেদ্রো মোনসোন — আর্জেন্টিনা (১৯৯০)
গুস্তাভো দেসোত্তি — আর্জেন্টিনা (১৯৯০)
মার্সেল দেসাইলি — ফ্রান্স (১৯৯৮)
জিনেদিন জিদান — ফ্রান্স (২০০৬)
জন হেইতিঙ্গা — নেদারল্যান্ডস (২০১০)
এনসো ফের্নান্দেস — আর্জেন্টিনা (২০২৬)