
সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই (ঢাকা) : শিক্ষকতার পাশাপাশি বিষমুক্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন ঢাকার ধামরাইয়ের হান্নান হোসেন। উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের এই প্রগতিশীল কৃষক ক্লাস্টার ডেমোনেস্ট্রেশনের (gap) এর আওতায় মালচিং পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ‘ফিল্ড লিভার’ বেগুন চাষ করেছেন।
ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক বর্জন করে আধুনিক সেক্স ফেরোমন ও ইয়েলো ট্র্যাপ ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন তিনি। বাজারে বিষমুক্ত এই বেগুনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা পাইকারি দরে।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, চকচকে প্লাস্টিক মালচিং পেপারে ঢাকা সারি সারি বেগুনের ক্ষেত। তবে এই ক্ষেতের বিশেষত্ব হলো, এখানে নেই কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার। পোকা দমনের জন্য পুরো ক্ষেত জুড়ে বসানো হয়েছে পরিবেশবান্ধব সেক্স ফেরোমন ও হলুদ রঙের ইয়েলো ট্র্যাপ।
ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের চোখ জুড়ানো নিরাপদ সবজি ক্ষেত তৈরি করেছেন স্থানীয় আব্বাস উদ্দিন স্কুলের গণিত শিক্ষক হান্নান হোসেন। কৃষি পরিবারের সন্তান হান্নান ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে মাঠে গিয়ে ফসলের মায়ায় পড়েন। সেই সুপ্ত আগ্রহ থেকেই শিক্ষকতার মহান পেশা সামলানোর পাশাপাশি তিনি নামেন আধুনিক ও নিরাপদ কৃষিতে।
তিন বিঘা জমিতে তিনি এবার সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেছেন। এতে জমি প্রস্তুত, মালচিং পেপার, বীজ ও ট্র্যাপ বাবদ তার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। কীটনাশকমুক্ত ও নিরাপদ হওয়ায় বাজারে এই বেগুনের চাহিদা আকাশচুম্বী। বর্তমানে মাঠ থেকেই প্রতি কেজি বেগুন ১১০ টাকা পাইকারি মূল্যে বিক্রি করছেন তিনি। চলতি মৌসুমে এই ক্ষেত থেকে অন্তত ৪ লাখ টাকার বেগুন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা তার।
পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক এই আধুনিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষে হান্নান হোসেনকে সার্বক্ষণিক কারিগরি ও মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তিনি নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি তার মাঠে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে অনেকের। তার এই চোখ ধাঁধানো সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, তার মাঠে এখন প্রতিনিয়ত ৫/৬ জন মানুষ কাজ করেন। তিনি নিজে সফলতার পাশাপাশি কয়েকজন মানুষের কাজের ব্যবস্থা করেছেন। গণিতের শিক্ষক হিসেবেও এলাকায় তার বেশ নাম ডাক।
ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফুর রহমান জানান, হান্নান আধুনিক কৃষির রোল মডেল। তার মত যুবকেরা এ পেশায় আসাতে ধামরাইয়ের কৃষির উৎপাদন বেড়েছে। কৃষি আধুনিকায়ন করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। শিক্ষার আলো ছড়ানোর পাশাপাশি মাঠের ফসলে হান্নান হোসেনের এই সবুজ বিপ্লব প্রমাণ করে—সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি আর মেধা কাজে লাগালে কৃষিতেও শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব।