
শেখ মো.ইব্রাহীম, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার জাফর খালের ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পানিশ্বর ও চুন্টা ইউনিয়নের প্রায় ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। প্রায় দুই যুগ ধরে নিজেদের খরচে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে তা ব্যবহার করে আসছে এলাকাবাসী।
সরেজমিন দেখা যায়, একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে চলতে হয় ওই এলাকার মানুষদের। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ধান, চাল, পাট, ভুট্টা, গম, আদা, মরিচ, পেঁয়াজ ও রসুন পানিশ্বর বাজারে আনতে দুর্ঘটনায় পড়তে হয় অনেক সময়।
শাখাইতি গ্রামের শাহজাহান মিয়া বলেন, নৌকা চলাচলের জন্য সাঁকোটি উঁচু করে নির্মাণ করতে হয়। এই উঁচু সেতু পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, বয়স্ক পুরুষ এবং মহিলা। এই সাঁকো দিয়ে পানিশ্বর ইউনিয়নের পানিশ্বর, শাখাইতি, নাইলা, শোলাবাড়ি, দেওবাড়িয়া, বিটঘর, সিমনা, তারাখলা, শিতাহরণ, বড়ইবাড়ি ও বেড়তলা এবং চুন্টা ইউনিয়নের চুন্টা, বড়বল্লা, তারাখলা, রসুলপুর, আজবপুর, নরসিংহপুর, নয়াহাটিসহ ১৫ গ্রামের মানুষ পারাপার হচ্ছে। এছাড়া পানিশ্বর ও চুন্টা ইউনিয়নের পানিশ্বর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পানিশ্বর মাদানিয়া আলিম মাদ্রাসা, পানিশ্বর শামসুল আলম উচ্চ বিদ্যালয়, বেড়তলা উচ্চ বিদ্যালয়, নাইলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শিতাহরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা চলাচল করে।
পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদ মিয়া জানান, দুই যুগের বেশি সময় ধরে জাফর খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন এলে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ নেন না। বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের কাছে ঘুরেও সেতুর বিষয়ে মিলছে না কোনো সমাধান। স্থানীয় লোকজন নাইলা ও শোলাবাড়ি গ্রামের জাফর খালের ওপর প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। সেতু না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স যেতে পারে না ওই এসব এলাকায়। ফলে মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। সেতুর অভাবে কৃষি, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ বিভিন্ন দিকে পিছিয়ে পড়ছে।
সরাইল উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী ছিবগাত উল্লাহ বলেন, জাফর খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন। আমাদের থেকেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।