
বরিশালের গৌরনদীতে সাংবাদিক মোঃ মাসুদ সরদারকে মারধর, গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং মোটরসাইকেলে তুলে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ঘটনার আলামত নষ্ট করতে সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি খুলে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ মাসুদ সরদার (৩১)। তিনি গৌরনদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরদী এলাকার বাসিন্দা এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস ও দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লিখিত অভিযোগে মোঃ রিয়াদ সরদার, শিহাব সরদার, কথিত সাংবাদিক সৈকত নাসিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে সৈকত নাসিম পরিচয়ে এক ব্যক্তি জরুরি কথা আছে জানিয়ে মাসুদ সরদারকে টরকী বন্দর এলাকার একটি বেসরকারি এনজিও কার্যালয়ে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর ধাপে ধাপে রিয়াদ সরদারসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাসুদ সরদারের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে কিল-ঘুষি মেরে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নদীতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, সম্প্রতি রিয়াদ সরদারকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সংবাদটি সরিয়ে নিতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাতে সংগ্রহ করা না যায়, সে জন্য ক্যামেরার মেমোরি খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন মাসুদ সরদার। তার দাবি, এতে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় রিয়াদ সরদার, সৈকত নাসিম ও শিহাব সরদারসহ কয়েকজন তাকে টেনে-হেঁচড়ে মোটরসাইকেলে তোলার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত আইফোন ১৩ প্রো, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং নগদ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে মোবাইল ফোনটির আনুমানিক মূল্য ২৫ হাজার টাকা এবং ক্যামেরাটির মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরপর তিনি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
মাসুদ সরদারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ কিংবা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সুযোগমতো তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত রিয়াদ সরদার, শিহাব সরদার ও সৈকত নাসিমের বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক পারভেজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।