
নিজস্ব প্রতিবেদক | মাদারীপুর
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের নতুন টরকী বাজারে বিএনপির আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং এলজিইডির সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে দখলের চেষ্টা করছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, রমজানপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনেই প্রকাশ্যে সরকারি জমি দখলের কাজ চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত ১৯ জুন রমজানপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কর্মসূচির আড়ালেই সওজ ও এলজিইডির সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি জমি দখলের ঘটনায় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “৫ আগস্টের আগের শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও এভাবে প্রকাশ্যে সরকারি জমি দখলের সাহস কেউ দেখাতে পারেনি। অথচ এখন দিনের আলোতে সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।” তবে এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত অভিযোগ ও মতামত।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে ভূমি জরিপ করে দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার, প্রকৃত দখলদারদের শনাক্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “সরকারি জমি দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে উচ্ছেদ অভিযানসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দখলদারদের শনাক্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।