
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের গৌরনদীতে একটি ইউনিয়নের বরাদ্দের সার পাচার করে অন্য ইউনিয়নে পাঠানোর সময় স্থানীয়রা মঙ্গলবার সকালে ১টি ভ্যানভর্তি ১৫ বস্তা সার আটক করেছে। সার পাচারের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সময় সারের ডিলার সিরাজ হাওলাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
আদালতের সিদ্ধান্তে শেষে জব্দ হওয়া সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছে। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১১আগস্ট) সকালে উপজেলার খান্জাপুর ইউনিয়নের বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বটতলা এলাকায় সার বোঝাই একটি ভ্যান আটক করেন স্থানীয়ৈরা। পরে তাঁরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহিমকে জানান। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো পরিদর্শন করেন এবং ভ্যানচালক ও সার ডিলার সিরাজ হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ সময় ভ্যান থেকে ১৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়। ভ্যানচালক রাশেদ জানান, সকালে তিনি টরকী বন্দরে মাছ নিয়ে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বার্থী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বার্থী ইউনিয়নের সার ডিলার সিরাজ হাওলাদার তাঁকে ওই সারগুলো খান্জাপুর ইউনিয়নের ভূরঘাটা এলাকার সার বিক্রেতা কমলের দোকানে পৌঁছে দিতে বলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ডিলার সিরাজ হাওলাদার ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ২০হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা সারগুলো সরকারি নির্ধারিত মূল্যে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত না করে এক ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা সার অন্য ইউনিয়ন বা উপজেলায় পাঠানো বিধিসম্মত নয়। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার সঠিকভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী শেখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।