সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গৌরনদী পৌরসভার টরকী বন্দর এলাকার ছাগলহাটা মহল্লার একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে মোমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি কক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মোমেনার মরদেহ দেখতে পান স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটির পা হাঁটু পর্যন্ত মেঝেতে স্পর্শ করছিল। এ বিষয়টি নিয়েই মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের খালাতো ভাই ওমর ফারুক জানান, মোমেনা ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার কানারামপুর গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার মেয়ে। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন দুবাইয়ে ছিলেন তিনি। সেখানে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর গ্রামের সোহাগ রাঢ়ীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় তিন বছর আগে দুবাইয়ে তাদের বিয়ে হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মোমেনা প্রায় আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামী সোহাগ রাঢ়ী তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি গৌরনদীর টরকী বন্দর ছাগলহাটা এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় শাশুড়ি, দেবর ও জায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। নিহতের জা দিনা বেগম তার আপন ছোট বোন।
নিহতের ছোট বোন দিনা বেগমের দাবি, বাংলাদেশে ফেরার পর থেকেই মোমেনার সঙ্গে তার স্বামীর দাম্পত্য কলহ চলছিল। মোবাইল ফোনে তাকে তালাক দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।
দিনা বেগম জানান, ঘটনার দিন বিকেলে জরুরি প্রয়োজনে তিনি বাসার বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জানান, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বিদেশ থেকে মোমেনার স্বামী সোহাগ রাঢ়ী তাকে ফোন করে মোমেনার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার কথা জানান এবং বাসায় গিয়ে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেন। পরে তিনি অপর একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় যান। সেখানে কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান তারা। পরে বাসায় থাকা মোমেনার দেবর রাহাত রাঢ়ী (১৭) ও তার মায়ের সহযোগিতায় দরজা ভাঙা হয়।
জিয়াউর রহমানের ভাষ্য, দরজা ভাঙার পর কক্ষের ভেতরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে মোমেনাকে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে নিহতের বাবা মো. আব্দুল্লাহ মিয়ার অভিযোগ, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তিনি দাবি করেন, তার ছোট মেয়ে দিনা বেগম বাসায় না থাকার সুযোগে প্রবাসী জামাতা সোহাগ রাঢ়ীর প্ররোচনায় তার ছোট ভাই ও মা মিলে মোমেনাকে হত্যা করতে পারেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল্লাহ মিয়া ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, মোমেনা ও তার স্বামীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই আলোচনা ছিল। এ কারণে তার মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে তারা কেউ ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেননি।
(মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মোমেনা বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ি ও দেবরকে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোমেনা বেগম আত্মহত্যা করেছেন কি না, নাকি তার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আইজিপি ব্যজপ্রাপ্ত তারিক হাসান রাসেল এর মুঠোফোনে 01320151290 এই নাম্বারে কল দিয়ে আগামীর সময় প্রতিবেদক বক্তব্য চাইলে তিনি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পেয়ে গৃহবধূ মোমেনা আক্তার আত্মহত্যা করেছেন এ বক্তব্য প্রদান করেন।