
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাংবাদিক সোলায়মান তুহিনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্য প্রণেদিতভাবে মনগড়া মিথ্যাচার , অপপ্রচার ও গুজব রটিয়ে যাচ্ছে।
অতিসম্প্রতি গুটি কয়েক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুক আইডিতে সোলায়মান তুহিনকে জড়িয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সুধীজনদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে বরিশাল ও ঢাকায় অংশগ্রহণ করে আসছিলেন সোলায়মান তুহিন। ওইসময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার (তুহিন) ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে সে সময় ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে উজিরপুর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় সোলায়মান তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোলায়মান তুহিন বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাকে থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। ওই মামলায় তিনি পাঁচ মাস ২০ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।
সোলায়মান তুহিন জানান, একই মামলায় তৎকালীন উজিরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম, বামরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আলম রাঢ়ী, শোলক ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শহিদুল ইসলাম, মোড়াকাঠি গ্রামের সোহাগ, জামায়াত নেতা মাওলানা নাসির উদ্দীন, অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমানসহ আরও অনেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ওইসময় গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাবুল, চাঁদশী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জয়নাল সরদার, গৌরনদী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জাকির হোসেন, কাসেমাবাদের ফার্মেসি ব্যবসায়ী তুহিন আকন এবং মাহিলাড়ার সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী তোতা মিয়াসহ আরও অনেকেই সে সময় কারাবরণ করেছেন ।
সোলায়মান তুহিন জানান, ২০২২ সালে বরিশালের আঞ্চলিক পত্রিকা বাংলাদেশ বাণী-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাংবাদিকতা পেশায় দায়িত্ব পালনের সময় একটি অনুষ্ঠানে বরিশাল-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে তার একটি ছবি তোলা হয়। পরবর্তীতে ওই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার করা হয়েছে।
সোলায়মান তুহিন বলেন, ছবিটির প্রকৃত প্রেক্ষাপটের আড়াল করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া গৌরনদীতে প্রায় অধিকাংশ সাংবাদিকের আওয়ামী নেতাকর্মীদের সাথে ছবি ও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। যারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাতারাতি খোলস পাল্টে এখন বিএনপি নেতা বনে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, চলতি মাসের গত ৫ আগস্ট বিএনপির শরিক দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আমি বক্তব্য প্রদান করি। কিন্তু পরবর্তীতে ওই বক্তব্য ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সোলায়মান তুহিন স্পষ্ট করে বলেন, আমি নিজেকে কখনো ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেইনি। আমাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া বা এ ধরনের কোনো তথ্য প্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গৌরনদী প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সাথে সখ্যতার বিষয়ে সোলায়মান তুহিন বলেন, সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সাথে গৌরনদী পৌর ছাত্রদল ও বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোল্লা মাহফুজ আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সাংবাদিক জহির ভাই আমাকে নিয়ে তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন।
অপরদিকে টিএম তুহিনের বিষয়ে তিনি (সোলায়মান তুহিন) বলেন, গৌরনদীতে তুহিন নামে আরও একজন সাংবাদিক রয়েছেন তা আমার জানাছিলো না। কারণ বিগত ১০ বছরে আমি (সোলায়মান তুহিন ) ছাড়া তুহিন নামের কোন সাংবাদিকের প্রতিবেদন দেখিনি। গুটি কয়েক নিউজ পোর্টলে আমার নামে গুজব রটানোর পরে আমি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি যে তুহিনের (টিএম তুহিন) কথা বলা হয়েছে তিনি আর কেউ নন তিনি হলেন গৌরনদী বন্দরের সাবেক দর্জি (টেইলার্স) ও ২০২৪ সালের আওয়ামী সরকারের পাতানো নির্বাচনের হাসানাতের ডার্মি প্রার্থী।
সোলায়মান তুহিন বলেন, লোক মুখে শুনেছি একসময়ের ছাত্রলীগ ক্যাডার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে ওই তুহিন তার নামের আগে টিএম যোগ করেন। যার অর্থ হচ্ছে টাইগার মোঃ তুহিন। তিনি (তুহিন) একটি তেলের পাম্পের মালিকের সাথে পরকীয়া করে তার টাকা পয়সা হাতিয়ে ইতালিতে পারি জমিয়েছেন। বর্তমানে সে ইতালিতে রয়েছে। সেখানে তার নাম ব্যবহার করে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সোলায়মান তুহিনের ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, অতীতের এসব রাজনৈতিক ঘটনা ও মামলা-মোকদ্দমাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বর্তমানে তার সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাদের মতে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য যাচাই করা সাংবাদিকতার নীতিমালার অংশ।
এ বিষয়ে সোলায়মান তুহিন বলেন, আমার রাজনৈতিক অতীত ও কারাবরণের বিষয়টি গোপন করার কিছু নেই। তবে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমার সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।