
গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার জিরানী বাজার এলাকায় অবস্থিত ড্রিমল্যান্ড গেস্ট হাউজে আবারও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে কাশিমপুর থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গেস্ট হাউজটিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১৬ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই ড্রিমল্যান্ড গেস্ট হাউজকে কেন্দ্র করে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটিতে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ ২০২৬ সালে পরিচালিত অভিযানে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৪২ জনকে আটক করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর গেস্ট হাউজটি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার অভিযান পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, “একাধিকবার অভিযান হয়েছে, অনেককে আটকও করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের মতো কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—স্থায়ী সমাধান কেন হচ্ছে না?”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা চাই প্রশাসন কঠোর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, পরিচালনা ব্যবস্থা ও মালিকপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় একই ধরনের অভিযোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
কাশিমপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ড্রিমল্যান্ড গেস্ট হাউজে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধুমাত্র সাময়িক অভিযান নয়, বরং কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপের মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধ করে এলাকায় স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।