
জাহিদুল ইসলাম , কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
কয়রার মৎস্য ঘের দখল ও বসতবাড়িতে হামলার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাগালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ কোহিনূর আলম সানা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কোহিনূর সানা জানান, গত ২৬ জুলাই একই গ্রামের আবদুর রশিদ সানা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন— জহুরুল শিকারী, কোহিনূর সানা, বাপ্পি ওরফে শুভ, আলিফ ও রবিউলসহ কয়েকজন তাঁদের ভোগদখলীয় জমি ও মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং মোটা অংকের চাঁদাবাজি করছেন। তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে কোহিনূর বলেন, “প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। প্রতিপক্ষরা মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই নাটক সাজাচ্ছেন।”
অভিযোগের মূল ঘটনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আবদুর রশিদ ও তাঁর ভাই ‘টাইগার খলিল’ বিগত সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে জমি দখল ও মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছেন। এমনকি সরকারি জমি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে এলাকার সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, আবদুর রশিদ বনদস্যু ‘মোজাম বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য হিসেবে পূর্বে জেল খেটেছেন এবং তাঁর ভাই টাইগার খলিল একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, যার বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যকে মারধর ও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা রয়েছে।
এ সময় কোহিনূর সানা প্রতিপক্ষের করা মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী এলাকার অর্ধশতাধিক নির্যাতিত বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে প্রতিপক্ষ আবদুর রশিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, “ঘটনার সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের জন্য আমরাও প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”