
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা পশ্চিম বড়গোনা ও ছনুয়া ইউনিয়ন এবং কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার নাপিতখালী এলাকায় এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা শাহ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ (মা.জি.আ.) উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। এ সময় তিনি বলেন, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ঈমানি দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ছারছীনা দরবার শরীফ দীর্ঘদিন ধরে দ্বীন, দেশ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ত্রাণ পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগের কঠিন সময়ে ছারছীনা দরবার শরীফের এই সহায়তা তাদের নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ড. হাফেজ মাওলানা মো. রুহুল আমিন, কেবিনেট সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা মো. বোরহান উদ্দীন ছালেহী, সহ-ছাত্র হিযবুল্লাহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মির্জা মো. ইয়াসিন রহমান জবীহুল্লাহ, চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. আবদুর রহমান, চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মো. সাইফুদ্দীন খন্দকারসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি, আলেম-উলামা, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে (১৩৫২ বঙ্গাব্দ) ছারছীনা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ.) প্রতিষ্ঠা করেন ‘হেমায়েত ইসলাম ফান্ড’। নওমুসলিমদের সহায়তা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি বন্যা, দুর্ভিক্ষ, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ ফান্ডের মূল লক্ষ্য। সেই ধারাবাহিকতায় গাজায় যুদ্ধাহত মানুষের সহায়তা, তুরস্কের ভূমিকম্পে ত্রাণ কার্যক্রম এবং দেশের বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে এ মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।