
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের গৌরনদীতে অন্য চিকিৎসকের নাম ও বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে নিজেকে ইউরোলজি ও জেনারেল সার্জন পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে ফিরোজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে উপজেলা প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার টরকি (সুন্দরদী) এলাকার আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ মুন্সী হাসপাতালে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ফিরোজ আহমেদকে আটক করা হয়। প্রশাসনের অভিযোগ, তিনি প্রকৃত চিকিৎসক ডা. মো. আমিরুল ইসলামের নাম ও বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ২৮৭৩৫ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখা এবং অস্ত্রোপচার করে আসছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. প্লাবন হালদার ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভুয়া চিকিৎসকের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ভুয়া চিকিৎসক গ্রেপ্তারের ঘটনার পরদিনগুলোতে একই হাসপাতালে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিনব্যাপী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
তবে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসকদের যোগ্যতা, বিএমডিসি নিবন্ধন এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না।
অন্যদিকে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার মনির হোসেন মুন্সী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে। এর মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল এবং মন্দির ভাঙার অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে মামলা রয়েছে বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও মামলার বর্তমান অবস্থা নির্ভরযোগ্য নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এছাড়া মনির হোসেন মুন্সী ও তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, অতীতে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য দলিল-প্রমাণ যাচাই ছাড়া কোনো পক্ষের রাজনৈতিক পরিচয়কে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দাবি করা যায় না।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিএমডিসি নিবন্ধন, অস্ত্রোপচারের অনুমোদন এবং রোগীদের নিরাপত্তা—সবকিছু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে যাচাই করা হোক। পাশাপাশি হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট জমি, মন্দির ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ মুন্সী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ব্যারিস্টার মনির হোসেন মুন্সীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।